kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসে বিদেশ থেকেও

তৌফিক মারুফ   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসে বিদেশ থেকেও

প্রতিদিনই দেশের কিছুসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য যায় দেশের বাইরে। কেউ যায় রুটিন চেকআপ করার জন্য, কেউ যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসা খরচের হিসাব নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা থাকে না তাদের কাছে। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। বিদেশ থেকেও মানুষ আসে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে। বিদেশিরাও আসে; আসে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। তাদের লক্ষ্য একটাই—উন্নত বিশ্বের সমান মানের চিকিৎসা বাংলাদেশে মেলে তুলনামূলক অনেক কম খরচে। আগে সাধারণত আমেরিকা-ইউরোপ প্রবাসী অনেকেই শুধু কম খরচে দাঁতের চিকিৎসার জন্য ছুটে আসত দেশের মাটিতে। এখন আরো কিছু অপারেশনের জন্যও প্রবাসীরা আসে দেশে।

৩০ বছর ধরে দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জাহিদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নাভির হার্নিয়া রোগে ভুগছিলেন। প্রথম দিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি আকারে বড় হতে থাকে। এমনকি নাভির ওপরের চামড়া পেঁয়াজের খোসার মতো পাতলা হয়ে যায়। এসব দেখে ভয় পেয়ে যান তাঁর চায়নিজ বংশোদ্ভূত স্ত্রী। তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠান ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে সার্জারি করার জন্য ভর্তি হতে বলেন। কিন্তু জাহিদ জানতে চান তাঁর নাভি রক্ষা করা যাবে কি না। সে ব্যাপারে ব্যাংককের চিকিৎসকরা উনাকে আশ্বস্ত করতে না পারায় তিনি বিকল্প খুঁজতে থাকেন। মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্সের বিশাল সাপোর্ট থাকায় ভাবতে থাকেন সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে চিকিৎসা করানোর কথা। বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করেন দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে। সেই সূত্র ধরে তিনি দুবাই থেকে উড়ে আসেন ঢাকায়। অপারেশন সেরে সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে আবার ফিরে যান দুবাইয়ে।

জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যাংককে চিকিৎসকদের কথায় যখন আশ্বস্ত হতে পারছিলাম না তখন দেশের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজখবর নিতে শুরু করি। একপর্যায়ে আমার এক ভাগ্নে আমাকে দেশে এসে এখানকার চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলে। সে অনুসারে দেশে এসে গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আমি দেখা করি রাজধানীর পান্থপথের একটি হাসপাতালের ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে। ডাক্তারের পরামর্শ পছন্দ হয় আমার। সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্ত দেরি না করে পরদিনই ভর্তি হয়ে যাই। গত ৩ সেপ্টেম্বর ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতির মাধ্যমে অপারেশন হয় (নাভি না ফেলে)। দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাই চট্টগ্রামে পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে সপ্তাহখানেক সময় কাটিয়েছি। নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক দিন পরে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আর এত সহজে চিকিৎসা সেরে ঘুরেফিরে যখন দুবাই ফিরে এসেছি তখন হিসাব করে দেখেছি ব্যাংককে বা অন্য দেশে এই অপারেশনের পেছনে আমার যে টাকা যেত তার অর্ধেকও বাংলাদেশে যায়নি।’

জাহিদ হোসেনের অপারেশন করা ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সাধারণত বাংলাদেশ থেকে রোগীদের বিদেশে যাওয়ার কথাই শুনি। তবে রোগী জাকির হোসেন আর্থিক সক্ষমতা থাকা বা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকক থেকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় না গিয়ে ছুটে এসেছেন দেশে। মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে বিদেশি বা প্রবাসী কোনো না কোনো রোগী আসেন। এটা আমাদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির বড় একটি দিক, যা মানুষ জানতে পারলে এ দেশের মানুষকে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। অন্যদিকে দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসার ওপর মানুষের আস্থার সংকট দূর করতে সহায়ক হবে।’

ডা. মামুন বলেন, অপারেশনটি খুবই ভালো হয়েছে, রোগীর নাভি হারাতে হয়নি। অপারেশন-পরবর্তী সময়ে তাঁর কোনোরূপ শারীরিক সমস্যা হয়নি এবং তিনি এখন সম্পূর্ণরূপে সুস্থ দেহে দুবাই ফিরে গেছেন।

হার্নিয়া রোগ সম্পর্কে ডা. মামুন জানান, হার্নিয়া হলো শরীরের এমন একটি অসুখ, যার একমাত্র চিকিৎসা হলো সার্জারি বা শল্যচিকিৎসা। হার্নিয়া রোগীর দেহাবরণের অন্তর্গত কোনো ত্রুটি দিয়ে পেটের ভেতরের চর্বি বা পরিপাকতন্ত্রের কোনো অংশ বাইরে বের হয়ে আসে। সাধারণত হাঁটাচলা, সিঁড়ি দিয়ে উঠা বা ভারী বস্তু উত্তোলন কালে এটা বাইরে বের হয়ে চামড়ার নিচে ফুলে যায় এবং বিছানায় শোবার পর আবার শরীরের ভেতরে চলে যায়। হার্নিয়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা