kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বাসচালক ও হেলপারের হাতে সীতাকুণ্ডে চিকিৎসক খুন!

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রামের শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিতে চেয়েছিলেন সীতাকুণ্ডের কুমিরার বাসিন্দা প্রবাসী শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহ আলম। সে লক্ষ্যে সৌদি আরবের নামকরা একটি হাসপাতালে ৩০ বছরের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে গত বছর নিজ বাড়ির সামনেই গড়ে তুলেছিলেন ‘বেবি কেয়ার’ নামের একটি ক্লিনিক। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। গত বৃহস্পতিবার রাতে গাড়িচালক-হেলপারের ছদ্মবেশে থাকা সন্ত্রাসীরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ তাঁর লাশটি উদ্ধার করেছে। প্রথম দিকে তাঁকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরে লাশটি শনাক্ত করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা বাইপাস সড়কে ঢাকামুখী লেনের পাশে গাছপালার ভেতরে এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পায় এক দল শিশু। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।

এদিকে বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ডা. শাহ আলমের লাশ উদ্ধার হলেও তাত্ক্ষণিকভাবে পুলিশ লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে ফেসবুকে লাশ দেখে রাত ৯টার পর তাঁর স্বজনরা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করে।

কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ক্লিনিক থেকে চট্টগ্রাম নগরে লাভ লেনে যাওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড-অলংকার রুটে নাভানা পরিবহনের বাসে ওঠেন। এরপর যাত্রীশূন্য বাসে চালক ও তার সহকারীরা তাঁর সব কিছু ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

মোর্শেদুল আলম জানান, ডা. শাহ আলম অত্যন্ত বড় মাপের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন। তিনি ছোট কুমিরা গ্রামের মৃত মাস্টার আজিজুল হকের ছেলে। দীর্ঘ ৩০ বছর সৌদি আরবের একটি নামকরা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি দেশে এসেছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশে সাধারণ পরিবারের শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম শেখ বলেন, কুমিরায় বাইপাস সড়কটি সমতল থেকে অনেকটা উঁচু। খুনিরা লাশটি মহাসড়কের পাশ থেকে নিচের দিকে ফেলে দিলে সেটি ঝোপের মধ্যে একটি গাছের সঙ্গে আটকে যায়। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় শিশুরা খেলতে গিয়ে লাশটি দেখতে পায়। তিনি বলেন, ‘লোকটির বয়স আনুমানিক ৫০-৫৫ বছর। তাঁর শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাত ও রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। ক্লিনিক থেকে ফেরার পথে গাড়িচালক ও হেলপাররা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা