kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

প্রাইভেট কার পিষে মারল পপি ত্রিপুরাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাইভেট কার পিষে মারল পপি ত্রিপুরাকে

পপি ত্রিপুরা গুলশান-২ নম্বরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন

রাজধানীর গুলশানে প্রাইভেট কারের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পপি ত্রিপুরা (২৩) নামে এক তরুণী। গতকাল শুক্রবার সকালের এ ঘটনায় সেলেনা ত্রিপুরা নামে তাঁর এক আত্মীয় গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ঘাতক গাড়ি ও এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

সূত্র জানায়, পপি ও সেলেনা গুলশান-২ নম্বরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে রিকশাযোগে তাঁরা কাজে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রিকশাটি ইউনাইটেড হাসপাতালের কাছে পৌঁছার পর পেছন থেকে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেট কার সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই আরোহী পপি ও সেলেনা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ অবস্থায় প্রাইভেট কারটি না থেমে পপির ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পপিকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে গতকাল বিকেলে গুলশান থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের লোকজন পপির মরদেহ গ্রামের বাড়ি বান্দরবানের থানচি এলাকায় নিয়ে যায়।

পপির বড় বোনের জামাতা মিলন ত্রিপুরা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রথমে ধাক্কা ও শরীরের ওপর দিয়ে প্রাইভেট কার চালিয়ে দেওয়ার পর রক্তাক্ত অবস্থায় পপি অনেকটা সময় রাস্তায় পড়ে ছিল। পরে কেউ একজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি জানান, পপির কর্মস্থল বিউটি পার্লার থেকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয় পপিকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তিনি পপির মোবাইল নম্বরে ফোন করেন।  ওপাশে কেউ একজন জানান যে পপি অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন। পরে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে তাঁর লাশ দেখতে পান।

মিলন ত্রিপুরা আরো জানান, পপি বান্দরবান সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে লেখাপড়া করছিলেন। পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে ঢাকায় থেকে বিউটি পার্লারে কাজ করছিলেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পপি ছিলেন মেজো।

পপির বাবার নাম আনন্দ্রিয় ত্রিপুরা। বাড়ি বান্দরবানের থানচি এলাকায়। গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় থাকতেন। এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রিকশাটিকে ধাক্কা দেওয়ার পরও প্রাইভেট কারটি থেমে গেলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। প্রাইভেট কারটির চাকা তাঁর পেটের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার সাব-ইন্সপেক্টর রবিউল হক বলেন, ‘প্রাইভেট কারটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থেকে কিছু ছবি পাওয়া গেছে। গাড়ির নম্বরও জানা গেছে।

গাড়ির চালককে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা