kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সাজানো শিশুটি পড়েছিল রাস্তায়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাজানো শিশুটি পড়েছিল রাস্তায়

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিনের কোলে শহরের কামাতপাড়া এলাকার রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া শিশু। ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকার একটি গলি থেকে এক মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তোয়ালে মুড়িয়ে রাখা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া শিশুর মা রিমু আক্তার। তাঁর স্বামীর বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর এলাকায়। বাবার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড়ে। আর নানার বাড়ি পঞ্চগড় পৌর শহরের কামাতপাড়া এলাকায়। প্রায় দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রিমু তাঁর শিশুকন্যা নিয়ে কামাতপাড়ায় আসেন। কামাতপাড়ার পেয়ারা মজুমদার নামের এক গৃহবধূকে তাঁর কন্যাসন্তানটিকে রাখতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলে তিনি তাঁকে পরে আসতে বলেন। রাত ৮টার দিকে কামাতপাড়া এলাকার অশোক চন্দ্র মোদকের বাড়ির সামনের রাস্তায় ওই কন্যাশিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন একই এলাকার জুয়েল ও তার মা জুলেখা খাতুন। শিশুর পরণে ছিল কমলা রঙের জামা। কপালে ছিল কাজলের টিপ। পরে তাঁরা পুলিশকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুর মা তাকে রেখে পালিয়ে গেছেন। শিশুটিকে এক পলক দেখার জন্য হাসপাতালে ছুটে যায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। খবর পেয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন এবং রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

কামাতপাড়া এলাকার পেয়ারা মজুমদার বলেন, ‘রিমু আগে এই এলাকায় থাকত। মানুষের বাড়িতে কাজ করত। দীর্ঘ দেড় বছর পর হঠাৎ সে এসে আমাকে বলে তার কন্যাশিশুকে রাখতে। আমি বললাম, আমার বাড়িতে মেহমান এসেছে। তুই পড়ে আসিস।  তারপর শুনলাম একটি শিশু পাওয়া গেছে। ছবি দেখে বুঝলাম, রিমু যে শিশুটিকে নিয়ে আসছিল, এটি সেই শিশু।’

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা শিশুটির মাসহ তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা চাই, শিশুটি তার মায়ের কোল ফিরে পাক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা