kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

শরীয়তপুর

পদ্মায় মা ইলিশ শিকার চলছেই

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পদ্মায় মা ইলিশ শিকার চলছেই

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থেকে জাজিরা পর্যন্ত পদ্মায় চলছে মা ইলিশ নিধন। শত শত নৌকা ও ট্রলার দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছেন জেলেরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শরীয়তপুরে অবাধে চলছে মা ইলিশ নিধন। প্রতিদিনই স্থানীয় জেলেরা নদীতে জাল ফেলছে। এই এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যেই মা ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে প্রতিদিনই কমবেশি জেলে, নৌকা ও ইলিশ আটক করার পাশাপাশি জেল-জরিমানা করা হলেও নিষিদ্ধ এই সময়ে মা ইলিশ শিকার বন্ধ হচ্ছে না।

জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রজনন মৌসুম হিসেবে ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকার, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এই সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে জেলেদের। তার পরও থেমে নেই জেলেদের মাছ ধরা। এক দিক দিয়ে প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালাচ্ছে, তো অন্য দিক দিয়ে মাছ শিকারে জেলেরা। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থেকে জাজিরা পর্যন্ত এভাবেই পদ্মা নদীতে দিনরাত মাছ শিকার করছে জেলেরা। শত শত নৌকা ও ট্রলার দিয়ে নদীতে মাছ শিকার যেন এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

জেলেদের ধরা মাছ বিক্রি হচ্ছে পদ্মার পারে দুর্গম এলাকায়। কম দামে ইলিশ কিনতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে ভিড় জমাচ্ছে। প্রশাসনের নজর এড়াতে বিশেষ কায়দায় ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে ক্রেতারা।  মাত্র এক হাজার টাকায় মিলছে এক হালি ইলিশ, যা কয়েক দিন পরই বাজারে বিক্রি হবে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকায়।

গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিনে পদ্মা নদীর বিলাশপুর শফিকাজীর মোড়, কাজিয়ারচর, বড়কান্দি, দুর্গারহাট, খলিফাকান্দি এলাকা ঘুরে দেখা গেল, ব্যাগ মাথায় করে, হাতে নিয়ে আবার কাঁধে ঝুলিয়ে দলে দলে মানুষ ইলিশ কিনে ফিরে যাচ্ছে। দেখে মনে হবে, নিজেদের ব্যবহারের জিনিসপত্র নিয়ে তারা কোথাও বেড়াতে যাচ্ছে। জাজিরার দুর্বাডাঙ্গা বাজার থেকে কাজিয়ারচর পদ্মা নদীর পারে যাওয়ার পথে পাকা রাস্তার শেষ মাথায় দেখা মিলল বিক্রমপুর থেকে আসা শান্ত শেখের সঙ্গে। শরীয়তপুরে আত্মীয়ের জন্য ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ প্রক্রিয়ায় তিনি ইলিশ নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতো শত শত মানুষ ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

পাকা সড়ক শেষে পাটির কাদামাখা পথ ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পদ্মার পারে গিয়ে দেখা গেল ঝাঁকাভরা মাছ নিয়ে দলে দলে বসে আছে বিক্রেতারা। ক্রেতারা ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়। নদীতে দেখা গেল শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা জাল ফেলে ইলিশ ধরছে। নৌকায় কিছু ইলিশ জমলেই জেলেরা নিয়ে আসছে বিক্রির জন্য। মাছ বিক্রি শেষ হলেই আবার ছুটে যাচ্ছে নদীতে। শুধু কাজিয়ারচর নয়, দুর্গারহাট, খলিফাকান্দি, মাঝিরঘাট, শফিকাজীর মোড়সহ পদ্মাপারের অর্ধশতাধিক স্থানে এভাবে ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে।

কাজিয়ারচর গ্রামের ছাত্তার মাদবর বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকার করতে হয়। প্রশাসনের লোকজন আসতে দেখলে অনেক সময় জাল ছেড়ে দিয়ে জেলেরা চলে আসে। আমার একটা নৌকা রয়েছে। ভরা মৌসুমে মাছ ধরতে না পারলে সারা বছরের লোকসান পোষাতে পারব না। তাই ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকার করছি। পুলিশ দেখলে লোকজন মাছ ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

স্থানীয় কামরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘পুলিশের নজর এড়িয়ে মাছ বেচাকেনা করতে হয়। পদ্মার পারে এ রকম দুর্গম শতাধিক স্থানে মাছ বেচাকেনা হচ্ছে। পুলিশ এলে আমরা পালিয়ে যাই। সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা কম। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদেই মাছ শিকার করছি।’

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈরাগী বলেন, ‘প্রতিদিনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত আট দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও নগদ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। ইলিশ নিধনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা এক দিক দিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে অন্য দিক দিয়ে জেলেরা নেমে যাচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা