kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বাদীর ইচ্ছামতো চার্জশিট!

ঘটনাস্থল থেকে ৩০ কিমি দূরে থেকেও আসামি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা এবং জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন কালাম। তাঁর গ্রামের বাড়িতে মারামারির ঘটনার সময়ে তিনি ছিলেন ৩০ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ শহরে নাগরিক আন্দোলন কার্যালয়ে। এ ঘটনা কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদসহ অন্যান্য সূত্রেও অবহিত ছিল ত্রিশাল থানা পুলিশ। কিন্তু মামলার অভিযোগপত্রে নুরুল আমীন কালামের নামও রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা বাদ দেননি ঘটনাস্থলে না থাকা অন্য আসামিদেরও। বাদী এবং মামলার সাক্ষীরা যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই আসামি তালিকা সাজিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছেন ত্রিশাল থানার বিতর্কিত এসআই সোহরাব আলী। তাঁর এমন তদন্ত নিয়ে নিন্দা ও ক্ষোভ ঝরছে ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন মহলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ মে ত্রিশাল উপজেলার সাউথকান্দা গ্রামে সন্ধ্যার দিকে সামান্য বিষয় নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছোটখাটো মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মেহেদী কায়সার মিশু মোট ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন, যাঁদের মধ্যে আছেন সাউথকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমীন কালাম। ঘটনার সময় কালাম ঘটনাস্থল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ শহরে জেলা নাগরিক আন্দোলন কার্যালয়ে সভা করছিলেন। নিজ গ্রামে মারামারির খবর শুনে সন্ধ্যার পর ত্রিশাল সদরে ছুটে যান তিনি। কিন্তু মামলায় উল্লেখ করা হয় কালাম মারামারির সময়ে লাঠি দিয়ে বাদীদের একজনকে পিটিয়েছেন। এভাবে আসামির তালিকায় তাঁর নাম ওঠায় এলাকার অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, পুলিশ তড়িঘড়ি করে গত মে মাসের ২২ তারিখেই মামলার চার্জশিট দিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অভিযোগপত্রটি আদালতে আসে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি অবহিত হন কালাম। এরপর তিনি আদালতে হাজির হয়ে মামলায় জামিন নেন।

জানা গেছে, এ মামলায় চার্জশিটে থাকা অন্তত ছয়জন ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। মামলার ৯নং আসামি নুরুল আমীন কালামের ছোট ভাই ডা. সাইদুল আমীন ত্রিশাল উপজেলা সদরে নিজ চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। আরো অনেকে মারামারির সময় বাড়িতেই ছিলেন না। কালাম বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি যে ময়মনসিংহ শহরে ছিলাম এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এর পরও পুলিশ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ায় আমি বিস্মিত।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি বলতে গেলে তদন্তই করেননি এসআই সোহরাব আলী। বাদী যেভাবে বলেছেন, তিনি সেভাবেই অভিযোগপত্র দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহরাব আলী বলেন, ‘সাক্ষীরা যেভাবে বলেছে, আমি সেভাবেই তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছি।’ ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, আইও তদন্ত রিপোর্ট করেছেন, তিনি শুধু সেখানে স্বাক্ষর দিয়েছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা