kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রংপুরে কর ফাঁকি দিয়ে বাড়ছে বিড়ি উৎপাদন

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রংপুর অফিস   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিড়ির ওপর কর বৃদ্ধির পর রংপুরে অবৈধভাবে এর উৎপাদন বেড়ে গেছে। নকল ব্যান্ডরোলে পণ্য বাজারজাত করায় বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।

নকল ব্যান্ডরোলে বিড়ি বাজারজাত করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি রংপুরের হারাগাছে দুটি বিড়ি ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে ৬৫ হাজার নকল ব্যান্ডরোলসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাব-১৩ রংপুরের সিপিএসসির কম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোতাহার হোসেন গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেনাজ ও পদ্মা বিড়ি কারখানায় অভিযানে ৬৫ হাজার পিস বিড়ির নকল/জাল রাজস্ব ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত এ এইচ এম মাহমুদ হাসান ওরফে ডনকে ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকাসহ আটক করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৯ জুলাই রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বালাবাড়ী নামক স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে দিনাজপুর থেকে ফরিদপুরগামী বিআরটিসি বাসের লকার থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করতে গত অর্থবছরে প্রথম বিড়ির ওপর দ্বিগুণ কর আরোপ করা হয়। সে হিসাবে প্রতি প্যাকেট বিড়ির বিপরীতে ৬.৭২ টাকা কর দেওয়া শুরু করে ফ্যাক্টরিগুলো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের ফলে বিড়ির উৎপাদন না কমে বরং বেড়েছে। আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।

বৈধ কারখানাগুলোকে প্রতি মাসে কাস্টম অফিসে তাদের উৎপাদন ও ব্যবসার রিটার্ন দিতে হয়। কিন্তু অবৈধ ফ্যাক্টরিগুলো কোনো হিসাব না দিয়েই বিড়ি উৎপাদন করছে। রংপুর বিড়ি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদাকাত হোসেন ঝন্টু বলেন, অবৈধ ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ না হলে বিড়িশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং বেকার হয়ে পড়বে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হারাগাছের ২৫ থেকে ৩০টি ফ্যাক্টরি বিভিন্ন শর্ত পূরণ করে বৈধভাবে বিড়ি উৎপাদন করে সরকার নির্ধারিত ব্যান্ডরোল প্যাকেটের গায়ে লাগিয়ে বাজারজাত করে আসছিল। তবে কর বৃদ্ধির পর নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে বৈধ ফ্যাক্টরিগুলোর নাম ও ডিজাইনের সঙ্গে মিল রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বিড়ি উৎপাদন করে বাজারজাত করছে।

সূত্র আরো জানায়, এই অল্প সময়ের মধ্যে কর ফাঁকি দিয়ে শুধু রংপুরেই নামে-বেনামে প্রায় ৩০০ বিড়ি ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। তবে এগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেই। বাড়িতে গোপনে বিড়ি উৎপাদন করে প্যাকেটের গায়ে নকল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে তুলনামূলক কম দামে বাজারজাত করছে তারা। ফলে বৈধ ফ্যাক্টরিগুলো বাজার হারাচ্ছে।

তবে রংপুর কাস্টম অফিসের দাবি, মাত্র ১৮৭টি বিড়ি ফ্যাক্টরি ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করেছে। আর বিড়ি ফ্যাক্টরির সংখ্যা অতটা বেশি নয়। বিগত সময়ে বৈধ ফ্যাক্টরিগুলো বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি বিড়ি উৎপাদন করত। বর্তমানে তা এক হাজার ৭০০ কোটিতে নেমে এসেছে। উৎপাদিত এই বিড়ি বাজারজাত করতে ফ্যাক্টরিগুলো প্রায় ৬৮ কোটি ব্যান্ডরোল কিনছে। তা থেকে বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। আর অবৈধ ফ্যাক্টরিগুলো কোনো ব্যান্ডরোল না কিনেই বছরে প্রায় ৬০০ কোটি বিড়ি উৎপাদন করছে। এতে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

রংপুর কাস্টম অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান, যারা কর ফাঁকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪৫টি বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কর ফাঁকির মামলাও দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা