kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সম্মেলনে কানাডার বিশেষ দূত

রোহিঙ্গাদের শিক্ষার সুযোগ না থাকায় নতুন সংকট!

আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছে গাম্বিয়া

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে মানবিক সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন মিয়ানমারবিষয়ক কানাডার বিশেষ দূত বব রে। গতকাল শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সুবিচার ও জবাবদিহি’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (সিপিজে), কলম্বোভিত্তিক এশিয়া জাস্টিস কোয়ালিশন এবং নেদারল্যান্ডসের ইরাসমুস বিশ্ববিদ্যালয় রোটারডামের অন্তর্ভুক্ত ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল স্টাডিজ (আইএসএস) ওই সভার আয়োজন করে।

কানাডার বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও একবারের জন্যও মিয়ানমারে ঢুকতে পারেননি বব রে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এরই মধ্যে পাঁচবার বাংলাদেশ সফর করে রোহিঙ্গাদের এ দেশে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি গতকাল হেগে ওই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো—রোহিঙ্গাদের সঙ্গে নিয়েই সংকট সমাধানের চেষ্টা, সহানুভূতি, মিয়ানমারে সংস্কার, জবাবদিহি ও সমন্বয়।

বব রে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কথা অবশ্যই শুনতে হবে এবং বর্তমান সংকটকে বুঝতে হবে। এ যাবৎ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ রোহিঙ্গাদের কথা কেউ শোনেনি। রোহিঙ্গাদের সত্যিকারের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমাধান আসবে না।’ বাংলাদেশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের  শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে আপনারা নতুন করে মানবিক সংকট সৃষ্টি করছেন।’

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী আবুবকর ম্যারি টাম্বাডো বলেছেন, জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ৪ অক্টোবর আইনজীবী দলকে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মামলা করতে নির্দেশনা দিয়েছে তাঁর সরকার। এটি একটি বড় উদ্যোগ।

নেদারল্যান্ডসের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আনান কমিশনের সদস্য লেটেশিয়া ভ্যান ডেন আছুম বলেন, ‘মানবিক সংকটের মানবিক সমাধান নয় বরং রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির বাস্তুচ্যুতি ও দেশান্তর কর্মসূচির পরিচালক আজিম ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গাদের কোনো নেতৃত্ব নেই। তারা সবচেয়ে বঞ্চিত সম্প্রদায়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কোনো পরিকল্পনা নেই মিয়ানমারের। প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের আশ্বাস বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরো বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো ধ্বংস করে তাদের জমি অন্যদের দিয়ে দিয়েছে। এই সংকট সমাধানে আমাদের আরো কাজ করা উচিত।’

জুরিস্ট গ্লোবাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ইনিশিয়েটিভের সমন্বয়ক কিংসলে অ্যাবোট বলেন, মিয়ানমারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এখনো অর্থবহ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ধীর গতি সত্ত্বেও কিছু অগ্রগতি হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বর্মি রোহিঙ্গা সংস্থার সভাপতি তুন কিন বলেন, ‘আমার দাদা ও সু চির বাবা অং সান মিলে মিয়ানমারের সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করেছিলেন। আজ আমি মিয়ানমারের নাগরিক নই। আর তিনি (সু চি) মহান নেত্রী। কী পরিহাস!’ তিনি বলেন, ‘আমি রাখাইনে জন্মগ্রহণকারী রোহিঙ্গা। আমার বাবা মিয়ানমারের পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন, দাদা ছিলেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য। আর এখন আমি মিয়ানমারের নাগরিক নই। অং সান সু চি আমাকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করেন।’ ওই রোহিঙ্গা নেতা রোহিঙ্গা শিবিরে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার জন্য অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন।

সভায় বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ছাড়াও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, নারীপক্ষের ‘রোহিঙ্গা নারীদের পাশে আমরা’ কর্মসূচির সমন্বয়ক শিরীন হক, সিপিজের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুর হাসান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা