kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পঙ্গু হাসপাতালের জায়গায় রাজনৈতিক কার্যালয়

‘উচ্ছেদে গিয়ে তাড়াও খাইছি’

মেয়র, সচিবকে জানিয়েও লাভ হয়নি

জহিরুল ইসলাম   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘উচ্ছেদে গিয়ে তাড়াও খাইছি’

রাজধানীর শ্যামলী শিশুমেলার সামনের রাস্তা দিয়ে শিশু হাসপাতাল পার হয়ে সামান্য এগোলেই জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সীমানা শুরু। সড়কটির পাশে হাসপাতালের লম্বালম্বি সীমানাপ্রাচীর থাকলেও পশ্চিম পাশে তা করা সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের জায়গা দখল করে বানানো হয়েছে আওয়ামী লীগ ২৭ নম্বর ইউনিটের পঙ্গু শাখা ইউনিট কার্যালয়। পাশেই বসানো হয়েছে দুটি দোকান। বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চললেও ক্ষমতার দাপটের কারণে এখানে হাত দেওয়া যায়নি।

পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল গণি মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা নিয়ে অনেক ঘটনা আছে। অনেক সময় ভাঙতে এসে ভাঙতে পারে নাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত জানানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অন্য সব দোকান ভাঙতে পারলেও রাজনৈতিক কার্যালয় আর ওই দুটি দোকান ভাঙতে পারেনি। ১৫ দিন আগে পূর্ব পাশে দখলকৃত জায়গার ওপর বসানো একটি দোকান ভাঙতে গিয়ে আমি তাড়াও খাইছি।’

পরিচালক আরো বলেন, ‘শুরুতে অফিস ছিল। পরে তা বাড়িয়ে দুটি দোকান করে ফেলা হয়েছে। অবৈধ এই স্থাপনার জন্য হাসপাতালের চলমান প্রকল্পের দৃশ্যমান বাউন্ডারি করা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে মেয়র সাহেব ও সচিব মহোদয়কে অনেকবার বলেছি। চিঠি, টেলিফোন করা, ব্যক্তিগতভাবে দেখা করা, সংশ্লিষ্ট সিও সাহেবকে জানানো—সবই করা হয়েছে। কিন্তু ওনারা তো ঠিক করে দিলেন না!’

অভিযোগ আছে, পঙ্গু হাসপাতালের দখলকৃত জায়গায় এই অফিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যই বেশি চলে। এখানে বসেই পঙ্গু আওয়ামী লীগ ইউনিটের সভাপতি আজহার মোল্লা ফুটপাতের দোকান ও দালালদের ভাগ-বাটোয়ারার হিসাব রাখেন। আর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়েন আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক তারিক হাসান কাজল।

এ বিষয়ে তারিক হাসান কাজল বলেন, ‘পঙ্গুর আগের ডিরেক্টর সাহেব ফুটপাত থেকে অফিস হাসপাতালের জায়গায় এনে দিয়েছিলেন। এখানে গর্ত ছিল। আমরা ভরাট করে অফিস করি। সরকারের উন্নয়নকাজে বাধা হলে আমরা অফিস সরিয়ে নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পঙ্গু হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের শক্ত দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি ‘নাইট গ্রুপ’, অন্যটি ‘ডে গ্রুপ’ নামে পরিচিত। নাইট গ্রুপের দালাল সর্দার কালা বাবু পঙ্গু ইউনিট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আর ডে গ্রুপের মজনু, হাজেরা, বাসুর বউ, বিল্লাল ও তাঁর বউ ফাতেমা ওই অফিসে আসা-যাওয়া করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দখল করা জায়গার দুটি দোকানসহ আশপাশের ফুটপাতের দোকানে চাঁদার টাকা তোলেন আজহার মোল্লা। হাসপাতালের পূর্ব পাশে দখল করা জায়গার আরেকটি ওষুধের দোকান চালান পঙ্গু ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বারেক।

দোকান থেকে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে আজহার মোল্লা বলেন, ‘দোকানের কোনো ভাড়া নাই। তারা নিজেরা দোকান করে। মাঝেমধ্যে অফিসের খরচের জন্য টাকা দেয়।’ দালালরা রাজনৈতিক অফিসে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দালালদের কেউ এখানে আসে না। বাবুর (কালা বাবু) মা পঙ্গুতে চাকরি করে, তাই সে আসে। তাদের দাপট বেশি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা