kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

পাইকারিতে কমলেও খুচরায় কমছে না পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাইকারিতে কমলেও খুচরায় কমছে না পেঁয়াজের দাম

কাটছেই না পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা। সরবরাহ সংকটের দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় এই পণ্য। দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ার পর পাইকারি বাজারে কিছুটা কমলেও তার প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। 

ভোক্তারা বলছে, দায়সারা নজরদারির কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের বাজার কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তাঁদের কাছে জিম্মি ভোক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিচিত্র দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকায়। অতি মুনাফালোভী কোনো কোনো বিক্রেতা আমদানি করা পেঁয়াজও বিক্রি করছেন ১০০ টাকা কেজি দরে।  অথচ পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১০০ থেকে কমে ৯০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৮৫ থেকে কমে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা আগোরা সুপারশপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৬ টাকা কেজি দরে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের এক মুদি দোকানি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন ১১০ টাকায়। তাঁর পাশের আরেক দোকানিও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম হাঁকছিলেন ১১০ টাকা। ওই দোকানের বিক্রেতা শাহিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজার চড়া। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

পাইকারি বাজারে দাম কমেছে জানালে তিনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘আমার বেশি দামে কেনা পেঁয়াজ এখনো শেষ হয়নি। শেষ হলে কম দামে বিক্রি করব।’

রামপুরা কাঁচাবাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা শারমিন নামের এক ক্রেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। সরকারের কোনো নজরদারি নেই। কাউকে বড় শাস্তি দিতেও দেখা যায় না। এ কারণে তারা আমাদের পেয়ে বসেছে।’

আরেক ক্রেতা ফরিদুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভাই, পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। বউকে বলেছি, এখন থেকে পেঁয়াজ খাওয়ার দরকার নেই। পেঁয়াজ ছাড়া তরকারি রান্নার অভ্যাস করতে চেষ্টা করো।’ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সেপ্টেম্বরের ২৯ তারিখ। তখন একবার পেঁয়াজের দাম ১৩০ টাকায় ওঠে। এই দাম কমতে শুরু করলে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতে শুরু করেছিল। কিন্তু পরে আবার দাম এক লাফে ৬৫-৮৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিয়ানমার থেকে যেসব পেঁয়াজ আনা হচ্ছে তার ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত পচা, যে কারণে সরবরাহ সংকট কাটছে না। মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ আকারে বেশি বড় হওয়ায় গ্রাহকরা পছন্দ করছে না। শ্যামবাজারের আমদানিকারক ও পাইকারি বিক্রেতা হাফিজ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধীরে ধীরে সরবরাহ সংকট কমছে। পাইকারিতে দামও কমতে শুরু করেছে। এখন এর প্রভাব খুচরায় না পড়লে অমাদের কী করার আছে!’

এদিকে পেঁয়াজের পাশাপাশি এক মাস ধরে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় রসুন, আদা, ডাল, ডিমের দামও বাড়তি। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শীতের আগাম সবজির দামও লাগামছাড়া। বাজারে ইলিশের সরবরাহ না থাকায় অন্যান্য মাছের দামও বেশ চড়া। সব মিলিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ভোক্তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা