kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাংলা ও খ্রিস্টীয় তারিখের সাযুজ্য রাখতে বাংলা বর্ষপঞ্জির সংস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা ও খ্রিস্টীয় তারিখের সাযুজ্য রাখতে বাংলা বর্ষপঞ্জির সংস্কার

ভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস বাংলা ও খ্রিস্টীয় বছরের তারিখে সাযুজ্য রাখতে, বাংলা দিনপঞ্জি সংস্কার করল সরকার। যার ফলে দূর হলো বাংলা তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি। বাংলা একাডেমির দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় এ সংস্কার সম্ভব হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুসারে এ বছর ১৪২৬ বঙ্গাব্দে প্রথমবারের মতো আশ্বিন মাস এসেছে ৩১ দিন নিয়ে। ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ১ কার্তিক।

গত বুধবার সকালে কোনো কোনো পত্রিকায় বাংলা তারিখ ছাপা হয়েছে ১ কার্তিক। আবার নতুন নিয়ম অনুসরণ করে কয়েকটি পত্রিকা ৩১ আশ্বিন ছাপে। পুরনো পঞ্জিকা অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি হওয়ায় বেশির ভাগ অনলাইন সংবাদপত্রে দেখানো হয় ১ কার্তিক। এর ফলে অনেকের মধ্যে বাংলা দিনপঞ্জি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

বাংলা একাডেমির অভিধান ও বিশ্বকোষ উপবিভাগের কর্মকর্তা রাজীব কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাব করে আসছিলাম বাংলা তারিখের কিছু বিভ্রান্তি দূর করতে। মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় দিন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল ৮ ফাল্গুন। কিন্তু সাধারণত ২১ ফেব্রুয়ারি পড়ত ৯ ফাল্গুন। একইভাবে মহান বিজয় দিবস ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ছিল ১ পৌষ। বাংলা পঞ্জিকায় দিনটি পড়ত ২ পৌষ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন ২৫ বৈশাখ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন ১১ জ্যৈষ্ঠ গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সঙ্গে মিলত না। এই বিশৃঙ্খলা দূর করে দুই বর্ষপঞ্জির মধ্যে দিন গণনার সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ৮ ফাল্গুন, স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ১২ চৈত্র, বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর ১ পৌষ, রবীন্দ্রজয়ন্তী ৮ মে ২৫ বৈশাখ, নজরুলজয়ন্তী ২৫ মে ১১ জ্যৈষ্ঠ—এমন করে সব বিশেষ দিবস বাংলা ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দিন গণনায় অভিন্ন হবে।’

বাংলা একাডেমির পরিচালক (গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগ) মোবারক হোসেন বলেন, ‘পুরনো নিয়মে বৈশাখ থেকে ভাদ্র—এই পাঁচ মাস গণনা করা হতো ৩১ দিনে। আর আশ্বিন থেকে চৈত্র—সাত মাস হতো ৩০ দিনে। তবে ইংরেজি লিপইয়ারে ফাল্গুন মাস ৩১ দিনে হতো। এখন নতুন নিয়মে বৈশাখ থেকে আশ্বিন—প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনে হবে। কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও চৈত্র—এই পাঁচ মাস হিসাব করা হবে ৩০ দিনে। আর ফাগুন মাস হিসাব করা হবে ২৯ দিনে। ইংরেজি লিপইয়ারের বছর এক দিন বেড়ে ফাল্গুন হবে ৩০ দিনের মাস।’

মোবারক হোসেন আরো বলেন, ‘বাংলা একাডেমির বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ক্যালেন্ডার সংস্কারের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানিয়েছিল। নতুন ক্যালেন্ডারে আগামী ১০০ বছর মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস বাংলাবর্ষের যে তারিখে ঘটেছে, ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তার হেরফের হবে না।’ 

চলতি ১৪২৬ বঙ্গাব্দ থেকেই সরকারিভাবে নতুন পঞ্জিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে তারিখে পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যকারিতা পায় গত বুধবার, আশ্বিন-কার্তিকের সন্ধিক্ষণে এসে।

বাংলা বর্ষপঞ্জি এর আগেও দুই দফা সংস্কার হয়েছে। পঞ্চাশের দশকে জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার নেতৃত্বে এবং ১৯৬৩ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অধ্যাপক অজয় রায়কে প্রধান করে একটি কমিটি করে বাংলা একাডেমি। সেই কমিটির সুপারিশ মেনেই ২০১৯ সালে করা সরকারি ছুটির তালিকা নতুন নিয়মে করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা