kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অস্ট্রেলিয়ায় চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় নিভল বাংলাদেশির প্রাণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্ট্রেলিয়ায় চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় নিভল বাংলাদেশির প্রাণ

চুরি হওয়া গাড়িটি লেন পরিবর্তন করে উল্টো পথে চলতে থাকে। এ সময় প্রচণ্ড বেগে শহিদুলের গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে চুরি হওয়া একটি গাড়ির ধাক্কায় শহিদুল ইসলাম (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শহিদুলের বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাটে। তিনি ব্রিসবেনের অ্যালবিয়নে স্ত্রী ও চার বছরের ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

জানা গেছে, গাড়ি চুরি করে চোর উল্টো পথে পালিয়ে যাওয়ার সময় শহিদুল ইসলামের গাড়িতে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হন চোরাই গাড়ির ওই ঘাতক চালকও। কুইন্সল্যান্ড অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

চুরি করা গাড়ির চালককে পুলিশি হেফাজতে ব্রিসবেন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আটক হওয়ার সময় তাঁর শরীর থেকেও ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

কুইন্সল্যান্ড রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া গাড়িটি পুলিশ ধাওয়া করেনি। তবে গাড়িটি নজরদারিতে ছিল। গাড়িটি দ্রুতগতিতে চলছিল। একপর্যায়ে চুরি হওয়া গাড়িটি লেন পরিবর্তন করে উল্টো পথে চলতে থাকে। এ সময় প্রচণ্ড বেগে শহিদুলের গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শহিদুলের কোনো দোষ নেই।

দুর্ঘটনায় চুরি হওয়া গাড়িতে থাকা অন্য এক ব্যক্তিও ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত আরেকজন পরে হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। ব্রিসবেন থেকে শহিদুলের বন্ধু ফারুক রেজা টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, তিন ভাই-বোনের মধ্যে শহিদুল সবার ছোট। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর ব্রিসবেনে সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশোনা করেন শহিদুল। তাঁর স্ত্রী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, পেশায় একজন নার্স।

তিনি জানান, পরশু রাতেই শহিদুল একটি বাড়ি কিনেছেন। সেখান থেকে ফিরে আসার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ওই সময় পাশের লেন দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স আসছিল। ৩০ সেকেন্ড পরেই অ্যাম্বুল্যান্সের লোকজন সেখানে পৌঁছে তাঁকে মৃত অবস্থায় পান।

ফারুক রেজা জানান, আগামী শনিবার ওই বাড়িতে ওঠার কথা ছিল শহিদুলের। আর আজ কথা ছিল, সেখানে ফ্রিজসহ কিছু জিনিস রেখে আসার। অ্যালবিয়ন এলাকায় তিনি ভাড়া থাকেন। সেখানেই ফিরে আসছিলেন। ব্রুস হাইওয়ে দিয়ে আসছিলেন তিনি।

তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থলের ১০ কিলোমিটার আগে ওই গাড়িকে ধাওয়া দিয়ে ধরার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। তবে গাড়িটি ১৪০ কিলোমিটার বেগে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। পরে চুরি করা গাড়ির চালক লেন পরিবর্তন করে উল্টো পথে চলতে থাকে। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

তিনি আরো জানান, যেহেতু এটা পুলিশ কেস তাই অনেক ঝামেলা আছে। লাশের অবস্থা ভালো ছিল না। গাড়ি কেটে মরদেহ বের করতে হয়েছে। এখন মর্গে আছে। আগামীকাল ময়নাতদন্ত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা