kalerkantho

রবিবার। ৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২ সফর ১৪৪২

সোনারগাঁয় আ. লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুর

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ধাওয়াধাওয়িতে উভয় গ্রুপের ১০ জন আহত হয়েছে। মণ্ডপে লক্ষ্মী প্রতিমা ভাঙচুরেরও খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। গতকাল জামপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির মেম্বারের প্রতিবেশী হরি সুদনের বাড়িতে প্রতিবছর লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু। একই সময়ে হুমায়ুন মেম্বার যুবলীগের সভায় যেতে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। বিরুর গাড়িবহর ব্যারিকেড দিয়ে হুমায়ুন মেম্বারের লোকজন রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে হুমায়ুন কবিরের ছেলে রুবেল মিয়া, রোমান মিয়া, শ্যালক রিপন মিয়া মারাত্মক আহত হন। অন্যদিকে ডা. বিরুর সমর্থক মোখলেছুর, নাজমুল হোসেন, নাফি মিয়া ও জাহিদ হোসেন আহত হন।

এ ব্যাপারে ডা. বিরু বলেন, ‘মণ্ডপে যাওয়ার পথে হুমায়ুন মেম্বার বাধা দিলে তাঁকে বুঝিয়ে পূজামণ্ডপে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে রোমান মিয়া একটি রিভলভার নিয়ে গুলি করার জন্য তাক করলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় গাড়িবহরে ইটপাটকেল ছুড়লে দু-একটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।’ প্রতিমা ভাঙচুরের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা মণ্ডপ পর্যন্ত যেতেই পারিনি, রাস্তা থেকে ফিরে এসেছি।’

হুমায়ুন মেম্বার বলেন, ‘আমি যুবলীগের মিটিংয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় বিরুর গাড়িবহর থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেল এসে গতি রোধ করে আমার ওপর হামলা করে। এ সময় আমার দুই ছেলে, শ্যালক ও আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে তাদের রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারাত্মক আহত করে। পুলিশের সহযোগিতায় আমি আহতদের সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই।’ প্রতিমা ভাঙচুরের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশের সহযোগিতায় আহতদের নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। তবে যারা এর সঙ্গে জড়িত আমি তাদের শাস্তি চাই।’

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার ভৌমিক বলেন, ‘কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এখনো সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা আগামীকাল গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারব।’ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার ও সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ওসি মনিরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষ ও প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানা-পুলিশের কয়েকটি টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দোষীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের বিশেষ টিম এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি প্রতিমা ভাঙচুরের সময় ওই বাড়িতে কোনো পুরুষ ছিল না, তারা সবাই অতিথিদের অপেক্ষায় রাস্তায় ছিল। কে বা কারা ভাঙচুর করেছে, বাড়ির মহিলারা ঠিক চিনতে পারেননি। তবে দু-একজনের নাম বলেছেন। তদন্ত করে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বাকিদের খুঁজে বের করা সহজ হবে। এ ব্যাপারে থানা-পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা