kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আবরার হত্যাকাণ্ড

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২২ অক্টোবর সমাবেশ করবে ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আগামী ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে ফ্রন্ট। এ ছাড়া দেশে-বিদেশে গণস্বাক্ষর অভিযানের কর্মসূচি দিলেও এর তারিখ পরে জানানো হবে বলে ফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে দুই দিনের এই কর্মসূচি ঠিক হয়।

মতিঝিলে নিজের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের অবস্থা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন, মানুষও উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি অনেক রকমের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে আবরার হত্যার ঘটনা, যেটা সবাই দেখেছে—কিভাবে এটা ঘটানো হলো। ইচ্ছাকৃতভাবে একজন মেধাবী নিরীহ ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা জঘন্য ব্যাপার। এই ধরনের যেসব ঘটনা ঘটেছে তা আজকে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঢাকায় আগামী ২২ তারিখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা জনসভা করব। যেখানে আমাদের ফ্রন্টের সকলেই আসবেন, বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন।’

আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ঢাকায় ফ্রন্টের নাগরিক শোকাযাত্রার কর্মসূচি ছিল। তবে পুলিশ শুরুতেই বাধা দিলে কর্মসূচি সফল করতে পারেনি ফ্রন্ট।

সে ক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি ঐক্যফ্রন্ট পাবে কি না জানতে চাইলে ড. কামাল আরো বলেন, ‘আমাদের তো করে যেতেই হবে। পারমিশন দেবে না দেবে—আমাদের করেই যেতেই হবে। আমরা করে যাব।’ অনুমতি না পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবস্থা বুঝে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমাদের কাজ করতে হবে। তবে এটা জানা দরকার জনসভার অনুমতি না দেওয়া মানে সরকার সংবিধানকে লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে লেখা আছে, মৌলিক অধিকার আছে সভা-সমিতি করার, বক্তব্য রাখার। আর যদি এই ধরনের সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু করে, আমি তো মনে করি দেশের মানুষের তাদের (সরকার) ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া উচিত।’

এর আগে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ফ্রন্টের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “গণস্বাক্ষর অভিযান দেশে-বিদেশে করা হবে। এটার ফরমেট কী হবে তা ফ্রন্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হবে। এই ক্যাম্পেইনটা অনেকটা আমার বাবা (শাহ এ এম এস কিবরিয়া) হত্যার প্রতিবাদে যেভাবে করেছিলাম, ‘রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর’ এই মডেলে তৈরি করা হচ্ছে। আমরা এই গণস্বাক্ষর অভিযানের পর এটা বড় ডিসপ্লে করব ঢাকা শহরসহ অন্যান্য বড় শহরে। এর দিনক্ষণ পরে আপনাদের জানাব।”

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চারটি চুক্তির প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান কী হবে সেই প্রশ্ন বৈঠকে ওঠে। এ সময় বিএনপিসহ উপস্থিত আরো দুটি দলের নেতারা বলেন, এই চুক্তির ব্যাপারে ভারতের বিরোধিতা না করলেও সরকার যে কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, সেটা জনগণের সামনে তুলে ধরা দরকার। এ সময় গণফোরামের নেতা রেজা কিবরিয়া ও সুব্রত চৌধুরী এ প্রশ্নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, এটি করলে ঘুরেফিরে ভারত বিরোধিতাই চলে আসবে।

ওই সূত্র আরো জানায়, চুক্তির বিরুদ্ধে গণফোরাম অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও ড. কামাল হোসেন এ সময় নীরব ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা