kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অরক্ষিত রংপুর রেলস্টেশন নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সীমানাপ্রাচীর না থাকাসহ নানা কারণে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে রংপুর রেলওয়ে স্টেশন। বহিরাগত ও বখাটেদের উৎপাত, পকেটমার, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি আর টিকিট কালোবাজারিদের ‘নিরাপদ স্থানে’ পরিণত হয়েছে স্টেশনটি। প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এখানে।

গতকাল বুধবার ঢাকায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা পথে (রুট) আন্ত নগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রেনটি রংপুর, বদরগঞ্জ, পার্বতীপুর হয়ে চলাচল করবে। এতে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের চাপ আরো বাড়বে। সে কারণে রংপুরে নতুন ট্রেন চালুসহ রেলস্টেশনগুলো যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রেলযাত্রীরা।

গতকাল সকালে রংপুর রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা সামসাদ বেগম জানান, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক তিনি। নিরাপদ ভ্রমণ ও খরচ কম হওয়ায় কর্মস্থলে যাতায়াতে ট্রেনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ জন্য রংপুর রেলস্টেশনে সপ্তাহের ছয় দিনই তাঁকে আসতে হয়। কিন্তু স্টেশনটি একেবারেই অনিরাপদ দাবি করে তিনি বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে বিশেষ করে নারী যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বখাটেরা। সেই সঙ্গে আছে টিকিট কালোবাজারি। চোখে পড়ে না রেল পুলিশকে, অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয় না।

সিদ্ধার্থ নামের এক যাত্রী জানান, ব্যবসার কাজে বিভিন্ন স্থানে যেতে তাঁর প্রথম পছন্দ ট্রেন। কিন্তু রংপুর রেলস্টেশনে প্রায়ই ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এ স্টেশনে বিশ্রামের কোনো ব্যবস্থা নেই। উন্নত খাবার হোটেলের ব্যবস্থাও নেই। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা খুশি আক্তার জানান, মানুষ নিরাপদ যাতায়াত ও কম খরচের জন্য ট্রেনে চলাচল করতে বেশি পছন্দ করেন। রংপুর বিভাগের অধিকাংশ রেলস্টেশনে অব্যবস্থাপনার পরেও প্রতিদিন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। রংপুর থেকে একটি মাত্র আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করে উল্লেখ করে তিনি রংপুর-ঢাকা পথে আরো আন্ত নগর ট্রেন চালু ও রংপুর রেলস্টেশনকে যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলার দাবি জানান।

রংপুরের নাট্যকর্মী রাজ্জাক মুরাদ বলেন, সরকার রেলের সংস্কারে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু রংপুর অঞ্চলের রেলের সংস্কারকাজের গতি বেশ ধীর। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার রেলের অবস্থা বেশ করুণ। তাই রেলের উন্নয়নে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। যদিও রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সম্প্রতি পরিদর্শনে এসে রংপুর রেলস্টেশনের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে একটি আন্ত নগর ট্রেনসহ প্রতিদিন ১৫টি ট্রেন চলাচল করে এই স্টেশন দিয়ে। এর মধ্যে আপে আটটি এবং ডাউনে সাতটি ট্রেন চলে। প্রতিদিন চার হাজারের মতো যাত্রী রংপুর স্টেশন ব্যবহার করে গন্তব্যে যায়। বিভাগীয় নগরের রেলস্টেশন হিসেবে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই স্টেশনের অনেক যাত্রীর অভিযোগ বহিরাগতদের উৎপাতের বিষয়টি। রেলস্টেশনটিতে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে প্রায়ই।

রংপুর রেলস্টেশনে নিরাপত্তা দলের প্রধান এএসআই মশিউর রহমান জানান, তাঁদের দলে মোট সদস্য মাত্র পাঁচজন। এই স্বল্প লোকবল দিয়ে রেলের নিরাপত্তা দেওয়া কষ্টকর। বহিরাগতরা চারদিক থেকে স্টেশনে ঢুকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ে। এদিকে জেলার বদরগঞ্জ, শ্যামপুর, পীরগাছা এবং কাউনিয়া রেলস্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাউনিয়া বাদে কোনো রেলস্টেশনে যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তারক্ষী নেই।

রংপুর রেলস্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট মোজাম্মেল হক জানান, সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের আকস্মিক নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বর্তমানে যে পুলিশ ফাঁড়ি আছে এর পুলিশ সদস্যের সংখ্যা মাত্র ১৮। রেলের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী আছেন পাঁচজন। এই অপ্রতুল লোকবল দিয়ে অপরাধীদের দমন করা কষ্টকর। তার পরও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা