kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এনআরসি নিয়ে খোদ ভারতেই দ্বিধা-উদ্বেগ

আবেদনই করেনি চার লাখ ভারতীয়

মেহেদী হাসান   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এনআরসি নিয়ে খোদ ভারতেই দ্বিধা-উদ্বেগ

ভারতের আসামে নাগরিক তালিকায় (ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স, সংক্ষেপে এনআরসি) নাম উঠানোর জন্য রাজ্যটির প্রায় চার লাখ বাসিন্দা আবেদনই করেনি। নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপকালে জানা যায়, এনআরসি নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও দ্বিধা রয়েছে। এনআরসিতে নাম উঠানোর জন্য আবেদন করতে কাউকে বাধ্য করা হয়নি। এটি কোনো আদমশুমারি বা লোকগণনাও নয়। যারা এনআরসিতে নাম উঠাতে চায় তাদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল।

জানা গেছে, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেকে এনআরসির জন্য আবেদনই করেনি। কারণ তাদের অনেকেই এ প্রক্রিয়াটিকে মানতে পারেনি। তারা আইনি লড়াই চালানোর অপেক্ষায় আছে।

নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে গত ৫ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনআরসির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা বিভিন্ন সময় তাঁদের ‘রাজনৈতিক বক্তব্যে’ এনআরসির পক্ষে কথা বললেও সরকার যে সানন্দে আসামে এনআরসি হালনাগাদ করেছে তা নয়। বরং আদালতের নির্দেশে সরকার এনআরসি হালনাগাদ করতে বাধ্য হয়েছে। আসামে এনআরসি হালনাগাদ করলে ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে, এমন ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহল থেকে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এনআরসি হালনাগাদের ফলাফলের ‘ভুল শুধরাতে’ ক্ষমতাসীন দল এখন নাগরিকত্ব বিল আনার চিন্তা-ভাবনা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশিদের চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন ভারতের জনগণ। এ সমস্যা হয়তো সহজে সমাধান হবে না। ভারত সরকার এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে এনআরসিতে বাদ পড়ার অর্থ বিদেশি নয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, দেশটির আদালতই কাউকে বিদেশি ঘোষণা করতে পারেন। আর এই প্রক্রিয়াটিও বেশ দীর্ঘ।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যে ১৯ লাখ বাসিন্দা হালনাগাদ এনআরসিতে নাম উঠাতে পারেনি তারা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে তারা উচ্চ আদালত পর্যন্ত যেতে পারবে। এই ১৯ লাখ বাসিন্দার আপিল আবেদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ভিন্ন। এ থেকেও ধারণা করা যায় যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। এর বাইরে যে চার লাখ নাগরিক আবেদনই করেনি তাদের ক্ষেত্রে সরকার বা আদালত কী করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতের আদালত যদি কাউকে ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করেন তবে তিনি ‘বাংলাদেশি’ এটি মনে করারও কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে কাউকে পাঠাতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে সে ‘বাংলাদেশি’।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এনআরসি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক না কেন, এ বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সজাগ। তারা কোনোভাবেই চায় না, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সুসম্পর্ক নষ্ট হোক। এ কারণে এনআরসি বরাবরই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে তারা উল্লেখ করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, গত দুই মাসে ভারত প্রায় প্রতিটি বৈঠকেই এনআরসি বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা