kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বড়পুকুরিয়ার কয়লা চুরি

সাবেক ৭ এমডিসহ ২৩ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা চুরির মামলায় পলাতক খনি কম্পানির সাবেক সাত ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমদ ভূঞা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট এম আমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পিপি জানান, গতকাল এই চাঞ্চল্যকর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারক বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কম্পানির সাবেক সাত এমডিসহ ২৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখের মধ্যে অভিযোগপত্রভুক্ত এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই আসামিরা হলেন—বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানির সাবেক এমডি মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশিদ আলম, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আনিসুজ্জামান, প্রকৌশলী এস এম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহমেদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শরিফুল আলম, মো. আবুল কাশেম প্রধানিয়া ও আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, মো. আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমাম হাসান, উপব্যবস্থাপক মো. খলিলুর রহমান, মো. মোর্শেদুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান ও মো. জাহিদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক সত্যেন্দ্রনাথ বর্মণ ও মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক মো. সোহেবুর রহমান, উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম খাদেমুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হাওলাদার ও উপমহাব্যবস্থাপক মো. জোবায়ের আলী।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে গত বছরের ১৯ জুলাই পর্যন্ত এক লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯২ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে। যার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এই ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনিসুর রহমান বাদী হয়ে গত বছর ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তভার দুদকে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় এক বছর পর চলতি বছরের ২৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্তে এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে আরো ৯ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

দিনাজপুর পুলিশের আদালত পরিদর্শক মো. আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের জানান, মামলা দায়েরের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আসামি জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা