kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তিন শিশু জানে না পাশে মা-বাবা নেই!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন শিশু জানে না পাশে মা-বাবা নেই!

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ধানক্ষেতে ও ময়মনসিংহ মহানগরের একটি মসজিদের পাশে পাওয়া গেছে দুটি নবজাতক। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে একটি শিশুকে জন্ম দেওয়ার পর ফেলে রেখে চলে গেছেন তার মা। তিনটিই ছেলেশিশু। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম দুটি ও সোমবার তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে। শিশু তিনটিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

কিশোরগঞ্জ : পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল ভোরে তাড়াইলের রাউতি ইউনিয়নের পুরুড়া গ্রামের পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের ধানক্ষেতে নবজাতকের কান্না শুনে গ্রামের সুফিয়া খাতুন সেখানে যান। পরে তিনি শিশুটিকে পরম মমতায় কোলে তুলে নেন। বাড়িতে নিয়ে দুধ খাওয়ান ও সেবা-শুশ্রূষা করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত এলাকাবাসী তাঁর বাড়িতে ভিড় করে। ফুটফুটে শিশুটিকে আদর করে। পরে পুলিশ শিশুটিকে সুফিয়া খাতুনের কাছ থেকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের পরই শিশুটিকে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যান তার মা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. বদরুল হাসান বলেন, ‘এক দিনের শিশুটিকে আমরা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনকে দেখাই। শিশুটি অনেকটাই সুস্থ রয়েছে। এর পরও তাকে কয়েক দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।’

তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান জানান, শিশুটির ব্যাপারে তথ্য চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের পক্ষ থেকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ : মহানগরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঢোলাদিয়া সালেহা মার্কেটের জামে মসজিদের পাশ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। সে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় লোকজন জানায়, ভোর ৬টার দিকে তারা শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পায়। পরে মসজিদের আশপাশে খুঁজে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা নবজাতককে ফেলে গেছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নবজাতকের অভিভাবককে খুঁজে না পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটিকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : গত রবিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক নারীকে কে বা কারা ফেলে রেখে চলে যায়। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোতাহের হোসেন সেন্টু সন্তানসম্ভাবনা ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করান। রাতেই ওই নারী পুত্রসন্তান প্রসব করেন। সোমবার সকালে মা শিশুটিকে ফেলে চলে যান। এর পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আছে শিশুটি।

গতকাল সন্ধ্যায় মোতাহের হোসেন জানান, তিনি জরুরি বিভাগে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের সময় গোঙানি শুনতে পান। পেছন ফিরে দেখেন এক নারী গড়াগড়ি করছেন। প্রসূতি বিভাগে ভর্তির পর সাধারাণভাবেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। রাতেই কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনে এনে দেন মোতাহের। সকালে জানতে পারেন, মা সন্তানকে ফেলে চলে গেছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি জেনে শিশুটির দেখভালে সব ধরনের ব্যবস্থা নেন। ওই নারী কথা বলতে পারেন না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘শিশুটিকে কোথায় রাখা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা