kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

উবার চালকদের একাংশের কর্মবিরতি

গাড়ি সংকটে ঢাকায় দিনভর যাত্রী ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, ধর্মঘট আহ্বানের কারণ উবার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের শোষণ ও হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চালকদের দুটি সংগঠনের ডাকা কর্মবিরতির ফলে গতকাল সোমবার রাজধানীতে উবারের আওতায় গাড়ি সংকট দেখা দিয়েছিল। এতে চট্টগ্রাম ও সিলেটে তেমন প্রভাব না পড়লেও বিশেষ করে দিবসের শুরুতে সকালে ও বিকালে রাজধানীর কর্মজীবীরা উবারের গাড়ি ডেকেও পাননি। উবারের প্রধান অপারেশন এলাকা ঢাকায় চলাচলরত প্রায় ১০ হাজার প্রাইভেট কারের ৪০ শতাংশই রাস্তায় ছিল না। জরুরি প্রয়োজনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অ্যাপসভিত্তিক প্রাইভেট কারের সন্ধান পেতে হয়েছে অনেককে। তবে ভাড়া গুনতে হয়েছে অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রতি যাত্রায় গড়ে ২০০ টাকা বেশি। বিকেল ৩টায় এলিফ্যান্ট রোড থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেতে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের যাত্রীর গুনতে হয়েছে ৮৬১ টাকা। আবার রাতে একই দূরত্বে গন্তব্যে যেতে লেগেছে সাড়ে ৫০০ টাকা। উবারের ভাড়া নিয়ে এমন বিড়ম্বনায় অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল বেশি ভুগতে হয় যাত্রীদের।

নাবিলা আজিম নামের এক যাত্রী বিকেলে রোকেয়া সরণি থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন টয়োটা করোনা প্রিমিও ব্র্যান্ডের প্রাইভেট কারে (নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-৯৮৮৩)। ৪০ মিনিট দুই সেকেন্ডে এ পথ অতিক্রমে ভাড়া ওঠে ৩১০ টাকা। তবে দুপুরে একই দূরত্বে কল করে তিনি কোনো গাড়ি পাননি।

সকাল সাড়ে ৯টায় রামপুরা, উত্তরা, মহাখালী, বনানী, মিরপুর, শ্যামলী, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, কমলাপুর রেলস্টেশন, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীরা গাড়ি পেয়েছেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর। ভাড়াও দিতে হয়েছে অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। সকালে মালিবাগ থেকে আব্দুল গণি রোডে যেতে আব্দুল হালিমের ভাড়া গুনতে হয়েছে ৩৮০ টাকা। অথচ এই একই দূরত্বে অন্যান্য দিন ভাড়া উঠত প্রায় ২৫০ টাকা।

গত রবিবার মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টা উবারের গাড়ি চালানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার্স ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন। কর্মসূচি আহ্বানের পর থেকেই সংগঠনের নেতারা কর্মবিরতি পালনের জন্য উবারের প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলচালকদের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, এ কর্মবিরতি বা ধর্মঘট আহ্বানের কারণ ছিল উবার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের শোষণ ও হয়রানি। গত রবিবার কর্মসূচি আহ্বানকারী সংগঠন দুটির নেতারা কালের কণ্ঠকে জানান, ছয় মাস ধরে কমিশন কমানোসহ বিভিন্ন দাবি তাঁরা জানিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও উবারের ঢাকার উত্তরা কার্যালয়ে তাঁরা দুই দফা গিয়েও দাবি পূরণে কোনো আশ্বাস পাননি। চালকদের দাবিগুলোর মধ্যে আছে—ট্রিপ শুরুর পর থেকে শেষ করা পর্যন্ত কিলোমিটার ও মিনিট হিসাব করে ভাড়া দিতে হবে, উবারের কমিশন ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করতে হবে, গ্যাসের দাম বাড়ায় ভাড়ার হার বাড়াতে হবে, ডেস্টিনেশন অপশনে ডেস্টিনেশনের আশপাশে ট্রিপ দিতে হবে, চালকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, যাত্রীদের মাধ্যমে গাড়ির কোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া যাত্রীদের অভিযোগ যাচাই করে চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাত্রীর অ্যাকাউন্টে যাত্রীর ছবি থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাত্রীকে লোকেশন সম্পর্কে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে ও চালকের সঙ্গে যাত্রীর সংযোগ দূরত্ব সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটার করতে হবে।

অন্যদিকে উবার কর্তৃপক্ষ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধে চালকদের যে নির্দেশ দিয়েছে তাতেও দুই পক্ষে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তিন মাস ধরে পাওনা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে উবারের পক্ষ থেকে। গতকাল কর্মবিরতিতে থাকা একজন উবার প্রাইভেট কারচালক বলেন, ‘বহু চালকের কাছে উবার ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পায়। কোনো রাইডে চালকের লাভ কম হলে উবার তাদের বাড়তি অর্থ দিয়ে ভাড়া সমন্বয় করত। কিন্তু সেটি তারা এখন আর দিচ্ছে না। ফলে চালকরা ক্ষেপে আছেন।’

ঢাকা রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৬ সালে দেশে উবারের সেবা চালুর পর আমরা প্রথমবারের মতো কর্মবিরতি পালন করেছি। শুধু ঢাকায় ২০ হাজার গাড়ি উবারের আওতায় চালানো হচ্ছে। কর্মবিরতির ফলে অর্ধেক গাড়িই রাস্তায় নামেনি।’ এদিকে চালকদের কর্মবিরতি পালনকালে উবার কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বাংলাদেশে উবারের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক পিআর পরিচালক এ এস এম আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকায় কী পরিমাণ গাড়ি উবারের আওতায় যাত্রী সেবা দিচ্ছে তা জানতে হলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে।’ এ ছাড়া উবারের পক্ষ থেকে গতকাল চালকদের কর্মবিরতি কর্মসূচির বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘চালক ও অংশীজনরা যে ভোগান্তিতে পড়েছেন তাতে আমরা অনুতপ্ত। তবে এ কর্মসূচি ডেকেছে ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী। আমরা ঢাকা নগরবাসীকে যাত্রীসেবা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা চালক ও অংশীজনদের স্থিতিশীল আয় অর্জন অব্যাহত রাখতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা