kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ঢাকায় তিন দিনের ‘অবৈধ’ ধর্মঘট ডেকে আবার স্থগিত

অটোর ভাড়া বাড়াতে তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাত্রী ভাড়া বাড়ানো, অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল এবং রাইড শেয়ারিং বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকা মহানগরীতে তিন দিনের অটোরিকশা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে শেষে তা স্থগিত করা হয়েছে।

ধর্মঘট আহ্বানকারী ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ গতকাল সোমবার তা স্থগিত করে।

গতকাল দুপুরে বিআরটিএর বনানীর প্রধান কার্যালয়ে ধর্মঘট আহ্বানকারীদের নিয়ে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। বৈঠকে বিআরটিএ ও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক বরকত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈঠকে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ ৯ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দাবি পূরণে আশ্বাস দেওয়ায় আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ ধর্মঘট স্থগিত করা হলো।

মূলত অটোরিকশায় যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর জন্যই এ ধর্মঘটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ঢাকায় বর্তমানে অটোতে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ৪০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা ও যাত্রাবিরতিকালীন প্রতি মিনিট দুই টাকা নির্ধারিত আছে। এর বদলে ধর্মঘট আহ্বানকারীরা প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ৮০ টাকা ও পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৩০ টাকা ও যাত্রাবিরতিকালীন প্রতি মিনিট চার টাকা করার দাবি করেন।

সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নির্ধারণের জন্য কমিটি আছে। ভাড়া নির্ধারণ কমিটি ব্যয় বিশ্লেষণ করে সিএনজি-অটোরিকশা মালিকের দৈনিক জমা ও যাত্রীর ভাড়া নির্ধারণ করে। কিন্তু ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনগুলো কমিটির কাছে প্রস্তাব না দিয়েই ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।

রাইড শেয়ারিং বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তারা। তবে অভিযোগ আছে, ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতারা গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর সিএনজি-অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অ্যাপসভিত্তিক সেবা কম্পানির কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন। এখন আবার তাঁরা রাইড শেয়ারিং কম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছেন।

পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকায় অবৈধ অটোর চলাচল বন্ধ, প্রাইভেট অটোর বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ, অনুমোদনহীন মোটরসাইকেল ও কার অ্যাপসে চলতে পারবে না, রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে চালকদের নির্দিষ্ট পোশাকের ব্যবস্থা রাখা, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের গাড়ির তালিকা পুলিশের কাছে দেওয়া, সরকার নির্ধারিত মালিকের জমার হার নিশ্চিত করা ও শিফটিং প্রথা বাতিল, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়রানি ও ঘুষ বন্ধ করা, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা বন্ধ করা, অটোরিকশা খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা, গ্রাহকসেবায় বিআরটিএর হয়রানি বন্ধ করা।

ধর্মঘট আহ্বানের বিষয়ে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের (ঢাকা ৩৬৮০) সভাপতি সরদার মো. সোবাহান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুটি অবৈধ শ্রমিক ও তিনটি মালিক সমিতির সমন্বয়ে ঢাকা মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ আত্মপ্রকাশ করেছে। ওই দিনই ১৪ অক্টোবরের মধ্যে ৯ দফা দাবি না মানা হলে ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়। একটি শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটে যেতে হলে সাধারণ সভা আহ্বান করতে হয়। সাধারণ সভায় শ্রম দপ্তরের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পক্ষে-বিপক্ষে হ্যাঁ-না ভোট দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলো সাধারণ সভা আহ্বান না করেই মালিকের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য লিপ্ত হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা