kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে পাখি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

মাসুদ রুমী   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে পাখি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ‘বার্ড হিটে’ (পাখির আঘাত) জরুরি অবতরণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’। তবে এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইট নম্বর বিজি ০৮৪ সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা করে। কিন্তু পাখির আঘাতে তা ৯টা ২০ মিনিটে জরুরি অবতরণ করে। পরে সব যাত্রীকে সাড়ে ১০টার একটি বিশেষ উড়োজাহাজে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার। সাম্প্রতিক সময়ে উড্ডয়নরত উড়োজাহাজে বার্ড হিটের বেশ কয়েকটি ঘটনা সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাখি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণে বার্ড হিটে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এই বিমানবন্দরে মাত্র দুজন বার্ড শুটার (পাখি শিকারি) রয়েছেন বন্দুক দিয়ে পাখি তাড়ানোর কাজে। দুজন অবসরে গেলেও তাঁদের স্থানে নতুন লোক নিয়োগ হয়নি। কম জনবলের কারণে এ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া রানওয়ের চারপাশ থেকে পাখি সরাতে একসময় উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহার করা হলেও এখন তা কার্যকর নেই। পাখি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা; যার সর্বশেষ আলামত ছিল গতকাল সোমবারের ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিমানের ইঞ্জিনে পাখি ঢুকলে বেশি ক্ষতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। ইঞ্জিনের ফ্যান, ব্লেড ও স্পিনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া পাখির আঘাতের ঝুঁকি থাকলে পাইলটদেরও মানসিক চাপে থাকতে হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, চলতি বছরেই পাখির আঘাতে তাদের দুটি ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়েছে। তা ছাড়া যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের চারপাশে কয়েকটি জলাশয় থাকায় সেখানে মাছ ও কীটপতঙ্গ খেতে ঝাঁকে ঝাঁকে হাজির হয় পাখিরা। এ ছাড়া রানওয়ের সবুজ ঘাসও পাখিদের পছন্দ। তাই সেখানেও তাদের বিচরণ থাকে। এ জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে কোনো উড়োজাহাজ ওঠানামা করতে গেলে তাতে পাখির ধাক্কা লাগার আশঙ্কা বেশি থাকে। বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দরে লেজার লাইট, আল্ট্রা সাউন্ডের মাধ্যমে পাখি তাড়ানো হয়। কিন্তু এখানে এসব ব্যবস্থা নেই কেন জানতে চাইলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক ইউং কমান্ডার এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণ নিরাপদ রাখতে আমরা পাখি তাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এ জন্য আমাদের দুজন বার্ড শুটার আছেন, যাঁরা রানওয়েতে প্রতিদিন বন্দুক দিয়ে গুলির আওয়াজ করে পাখি তাড়ানোর কাজ করেন।’

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘হযরত শাহজালালে পাখি দমনের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে পাখি দমনে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের কথা বলে আসছি।’

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার হাসান মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ জন্য আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োজন। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আগে পাখি তাড়ানোর জন্য নিম্নমানের ডিভাইস কেনা হয়েছে, যা এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

এদিকে গতকাল বার্ড হিটের ঘটনায় সিঙ্গাপুরগামী ময়ূরপঙ্খীর ফের ঢাকায় জরুরি অবতরণ বিষয়ে বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বার্ড হিট করায় উড়োজাহাজটি ফিরে এসেছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বিমানের হ্যাঙ্গারে পাঠানো হয়েছে। ফ্লাইটে ১৪৫ জন ইকোনমিক ও ১১ জন বিজনেস ক্লাসের যাত্রী ছিলেন।’ ১৫৬ জন যাত্রী ছাড়াও উড়োজাহাজটিতে সাতজন ককপিট ও কেবিন ক্রু ছিলেন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা