kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

‘ফাঁক পথে’ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার!

প্রশ্ন উঠেছে প্রগতি সরণির আবরার ফুট ওভারব্রিজের সক্ষমতা নিয়েও

পার্থ সারথি দাস   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 ‘ফাঁক পথে’ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার!

মাথার ওপরেই ওভারব্রিজ। তার পরও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হয় অনেক পথচারী। রাজধানীর বাংলামোটর ওভারব্রিজ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ফুট ওভারব্রিজ থাকার পরও এক শ্রেণির পথচারী যানবাহন চলার মাঝেই দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ সড়ক বিভাজকের ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেও তাদের থামাতে পারছে না। অসচেতন পথচারীরা সড়ক বিভাজকে ফাঁক তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই দ্রুত চলাচল করছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের চালককেই রাস্তার দুই ধারে সতর্ক চোখ রাখতে হয়।

ব্যস্ততম প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের অদূরে গত ১৯ মার্চ বাসচাপায় প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। এ দুর্ঘটনার জের ধরে দানা বাঁধে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’। দাবি ওঠে নিহত আবরারের নামে ওই স্থানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ মাসের মাথায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ সেখানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করেছে। তবে সেতুটি চালুর পরও নিচের রাস্তায় বিভাজকের প্রতিবন্ধকতায় ফাঁক তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। আর অসচেতন পথচারীরা ফুট ওভারব্রিজের সিঁড়িতে পা না রেখে ঝুঁকি নিয়ে ওই ফাঁক গলে রাস্তা পার হচ্ছে।

গতকাল রবিবার বিকেল ৩টা থেকে টানা আধাঘণ্টা ফুট ওভারব্রিজটির ওপর অবস্থান করে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণী থেকে বৃদ্ধরাও রাস্তার দুই লেনের চলন্ত গাড়ির ফাঁক দিয়ে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছেন সড়ক বিভাজকের দিকে। এরপর বিভাজকে তৈরি করা ফাঁক পথে মাথা গলিয়ে ওপাশে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে ফুটপাতে উঠে যাচ্ছেন। কেউ কেউ দৌড়েও পার হয়ে যাচ্ছেন।

ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়াদের একজন নওরোজ আহমেদকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যস্ততম সড়কের এই পয়েন্টে যে পরিমাণ পথচারী পারাপার হয়ে থাকে সে তুলনায় ফুট ওভারব্রিজটি প্রশস্ত নয়। সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় পথচারীদের চলাচলের চাপে সেতুর ওপর বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। লেগে যায় জনজট। সময়ও বেশি লাগে। সে জন্য ঝুঁকি নিয়ে হলেও নিচ দিয়ে পার হতে হয়।’

ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী নাবিলা আক্তার বলেন, ‘মানুষের চাপে সন্ধ্যায় অবস্থা এমন হয় যে মনে হয় সেতুটি ভেঙে পড়বে। পথচারীর ভিড়ে গা ঘেঁষে চলাচল করতে হয়। এতে মেয়েদের বড় বেশি অস্বস্তিতে পড়তে হয়। তার পরও প্রাণ বাঁচাতে সেতুর ওপর দিয়েই চলি। তবে যাঁরা দৌড়ে পারাপার হন তাঁদের নিয়ে ভয় হয়—কখন চাকার নিচে নিভে যায় জীবন।’

ফুট ওভারব্রিজ থাকার পরও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হলে জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে। তবে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত সার্জেন্ট ও অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে ছিলেন নির্বিকার। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, ‘জরিমানা করলেও ওরা দৌড় দিয়েই পার হয়। থামানো মুশকিল। অথচ পথচারীদের এভাবে রাস্তা পার হওয়াটা যানজট সৃষ্টিরও একটি কারণ।’

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনার শিকারদের ৪৭ শতাংশই পথচারী। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুন নেওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল রবিবার) সকাল ১০টার দিকে রামপুরা থেকে গাড়িতে এই ফুট ওভারব্রিজ অতিক্রম করার আগে দেখেছি, ৬০ শতাংশ পথচারী সেতুর ওপর দিয়ে চলছেন। বাকি ৪০ শতাংশই ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলীকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি।’

প্রগতি সরণির এই অংশে কোনো মোড় বা ক্রসিং নেই। এর পরও বিপুলসংখ্যক মানুষের রাস্তা পারাপারের জন্য এখানে প্রায় সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকত। গত ২০ মার্চ আবরারের নামে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দুই পাশের সিঁড়ির কাজ শেষ করেই খুলে দেওয়া হয় সেতুটি। প্রতি পাশে একটি সিঁড়ি থাকায় পথচারীদের সারিবদ্ধ হয়ে খুবই ধীরগতিতে ওঠানামা করতে হয়।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, আবরার ফুট ওভারব্রিজের কাজ শতভাগ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তর। সেতুর দুই পাশে দুটি চলমান সিঁড়ি (এসকেলেটর) বসানো হবে। তা আমদানি করতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই দুটি সিঁড়িতে এসকেলেটর চালু করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা