kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকায় জাতিসংঘের দূতকে ডেকে অসন্তোষ প্রকাশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঢাকায় জাতিসংঘের দূতকে ডেকে অসন্তোষ প্রকাশ

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে ঢাকাস্থ কয়েকটি বিদেশি মিশনের প্রতিক্রিয়া জানানোয় অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত হয়েছে সরকার। ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পোকে গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে সরকারের মনোভাবের কথা জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসনকে ডেকেও সরকার তার অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে।

আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে গত বুধবার সকালে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক, ব্রিটিশ হাইকমিশন, জার্মান দূতাবাস তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানায়। ওই কূটনৈতিক মিশনগুলো আবরার হত্যাকাণ্ডে মর্মাহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি এর জবাবদিহিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বিদেশি মিশনগুলোর এই প্রতিক্রিয়া জানানোকে অনভিপ্রেত হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, তথ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর ঢাকায় আরো কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। এ বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং প্রথম প্রতিক্রিয়া জানানো জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ব্রিটিশ হাইকমিশনকে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো গত বুধবার সকালে তাঁর দপ্তরের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘বাকস্বাধীনতা একটি মানবাধিকার। ওই অধিকার চর্চার জন্য কাউকে হয়রানি, নির্যাতন বা হত্যার শিকার হওয়া উচিত নয়।’ বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশে ক্যাম্পাসভিত্তিক হত্যাকাণ্ডগুলোর দায়মুক্তির সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেছিলেন। সেদিন দুপুরে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছিলেন মিয়া সেপ্পো।

জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান গতকাল জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পোকে তলব করে আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাঁর বিবৃতির ব্যাখ্যা চান। মিয়া সেপ্পো সকাল ১১টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তিনি এ বিষয়ে নাহিদা সোবহানের সঙ্গে কথা বলেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে মিয়া সেপ্পো যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলতে পারেন না এবং তাঁর কথা বলাটা অনাকাঙ্ক্ষিত—এটি তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবরার হত্যাকাণ্ডকে বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা