kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভাঙন অব্যাহত

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ সিদ্দিক কাজীরপাড়া ও মজিদ শেখেরপাড়া গ্রাম এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে ভাঙনের কবলে পড়ে ১ নম্বর ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কের ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফেরিঘাটের পাশাপাশি ভাঙন চলছে পাশের দুই গ্রামে। এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে দৌতদিয়া ফেরিঘাটের ভাঙন এলাকা পরির্শনে আসেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ।

গত শনিবার ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যায় ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাট। সে সময় সিদ্দিক কাজীরপাড়া ও মজিদ শেখেরপাড়া গ্রামের কয়েক শ পরিবার তাদের বসতবাড়ি ও ভিটামাটি হারায়। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কর্তব্যরত পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ীর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার জানান, গত ১ অক্টোবর থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও পাশের বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়। সে সময় থেকে বালুভরা জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালিয়ে আসছে পাউবো। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ দিনে মোট ৬২ হাজার ১৬৯টি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার নদীভাঙন এখনো আমরা রোধ করতে পারিনি। তবে বালুভরা জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমন করতে পেরেছি।’ ভাঙন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডাব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম জানান, বন্ধ থাকা ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দুটি গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে চালু করা হয়েছে। এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আবু আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, বন্ধ ওই দুই ঘাট চালু হওয়ায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘাট সংকট কিছুটা কমেছে। কিন্তু স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে। বহরে থাকা ছোট-বড় মোট ১৬টি ফেরির মধ্যে বর্তমান ১২টি ফেরি সচল রয়েছে।

এদিকে ফেরিঘাট পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মোট ছয়টি ঘাট রয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে আরো দুটি নতুন ঘাট নির্মাণ করা হবে।’ নৌপথ গতিশীল করার কথা উল্লেখ করে নৌ মন্ত্রণালয়ের

সচিব আরো বলেন, ‘এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটকে আধুনিকায়ন করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে চার কিলোমিটার উজানে এবং দুই কিলোমিটার ভাটিপথে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে প্রতিবছর ভাঙনের হাত থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা