kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

‘উড়ন্ত ছিনতাইকারীর’ দৌরাত্ম্য যশোরে

১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশুসহ আহত ৩

ফিরোজ গাজী   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘উড়ন্ত ছিনতাইকারীর’ দৌরাত্ম্য যশোরে

যশোর শহরের মুজিব সড়কে গতকাল ‘উড়ন্ত ছিনতাইকারীর’ হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে আহত হয় শিশু রিকো বিশ্বাস ও তার মা দীপালি বিশ্বাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোর শহরে ‘উড়ন্ত ছিনতাইকারীদের’ দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। এসব ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে আকস্মিকভাবে এসে ‘ছোঁ’ দিয়ে পথচারী-রিকশাযাত্রীদের হাতের মোবাইল ফোন, ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকটা শিকারি পাখির মতো হঠাৎই ছুটে এসে মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ায় এদের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উড়ন্ত ছিনতাইকারী’। অনেক সময় চলন্ত রিকশার যাত্রীরা আচমকাই এসব ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানের শিকার হয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হচ্ছে। এসব ছিনতাই ঘটনার শিকার বেশির ভাগ মানুষ পুলিশের স্মরণাপন্নও হচ্ছে না। ফলে ছিনতাইকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের চেহারা আড়াল করতে এসব ছিনতাইকারী মুখোশ অথবা মাথায় হেলমেট ব্যবহার করে থাকে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে এদের কর্মকাণ্ডে তিন বছর বয়সী শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে।

গতকাল দুপুর ১টায় যশোর শহরের মুজিব সড়কে উড়ন্ত ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকো বিশ্বাস নামে তিন বছরের এক শিশু ও তার মা দিপালী বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। দিপালী মাগুরার শালিখা উপজেলার উত্তম বিশ্বাসের স্ত্রী।

রিকোর মামা মিঠুন বিশ্বাস জানান, গতকাল দুপুরে বোন দিপালী ও দুই ভাগ্নে রিকো ও আপনকে নিয়ে বোনের শ্বশুরবাড়ি মাগুরায় যাচ্ছিলেন ব্যাটারিচালিত রিকশায়। উপশহরের খাজুরা স্ট্যান্ডে যাওয়ার পথে জজ আদালতের পাশে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাঁর বোনের হাতের ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টান দেয়। এতে তাঁর বোন ও বোনের কোলে থাকা রিকো (৩) চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তাদের চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। রিকোর মাথায় আঘাত লেগেছে। দিপালীর হাত ও পায়ের হাঁটুতে মারাত্মক জখম হয়েছে। 

তিনি জানান, ছিনতাইকারীদের একজন মুখোশ ও অন্যজন হেলমেট পরা ছিল। তবে দিপালী ব্যাগ শক্ত করে ধরে রাখায় দুর্বৃত্তরা কিছু নিতে পারেনি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিক জানান, তাদের আঘাত গুরুতর। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘শিশু রিকোর সিটিস্ক্যান করতে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই মোকলেসুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আসামি আটকের জন্য অভিযান চলছে।’

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় যশোর পৌরসভার সামনে উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা উষা আক্তার (১৯) নামের এক রিকশাযাত্রী নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিল। ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীদের আচমকা টানে উষা রিকশা থেকে উড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে শহরের কসবা ফাঁড়ির এসআই সুকুমার কুণ্ডু জানান, উষার মাথা, পা ও হাতে আঘাত লাগে। থানায় এসে ছিনতাইয়ের ঘটনা জানালে তাদের মামলা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁরা তা করতে রাজি হননি। 

এর আগে ৮ আগস্ট বিকেলে তালবাড়িয়ায় এনজিও কর্মী অনুপমা বিশ্বাসের টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই হয়। ১৯ আগস্ট রাতে শহরের ঈদগাহর সামনে সাহাবুদ্দিন খান নাসিম নামে এক ব্যক্তির ব্যাগ উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এ ছাড়া ১৫ দিনে যশোর ঈদগাহ ময়দান লাগোয়া বাদশাহ ফয়সল স্কুলের পাশ থেকে দুপুর বেলা এক নারীর ব্যাগ ও যশোর মুজিব সড়কের অনন্যা ঘোষ ডেয়ারির সামনে থেকে এক পথচারীর মোবাইল ফোন উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ করলে যশোর কোতোয়ালি থানা ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো মামলা হয়নি। আমরা ছিনতাই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামি শনাক্তের চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই তাদের আটক করা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা