kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কর্মকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচারের দাবিতে লড়ছেন এক নারী

চট্টগ্রামের দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকা অভিযুক্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ওএসডি

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামের একটি উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এক নারী কর্মী চাকরিজীবনে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অত্যাচারের ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এক মাস আগে এসব ঘটনা জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অধিদপ্তরের আওতাধীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই নারী।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দিন। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা একই সঙ্গে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বাড়িও চন্দনাইশ উপজেলায়।

চট্টগ্রামের ওই দুই উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করতে গত সপ্তাহের শেষ দিকে চট্টগ্রাম আসেন এক সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. আশরাফুন্নেছা। জানা যায়, তিনি ২ অক্টোবর চট্টগ্রামের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় কার্যালয়ে ওই নারী কর্মচারী, তাঁর স্বামীসহ বিভিন্নজনের সাক্ষাৎ নেন।

তদন্তকাজের প্রথম দিনই অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফোরকান উদ্দিনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে (নিজ বেতনে) যোগদান করতে বলা হয়।

প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ফোরকান উদ্দিনের শাস্তির দাবিতে লিখিত অভিযোগ করা ওই নারী গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটিতে আমি ও আমার স্বামী লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দি দিয়েছি। গত বছরের ৮ মার্চ কৌশলে আমার বাসায় এসে একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন ফোরকান উদ্দিন। এরপর ধর্ষণের ভিডিও (গোপনে ধারণকৃত) প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে আরো কয়েকবার ধর্ষণসহ বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাঁর কথায় রাজি না হলে কখনো বদলি আবার কখনো চাকরিচ্যুতির হুমকি এবং ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেন। তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চলতি বছর মার্চ মাসে আমার স্বামীকে পুরো ঘটনাটি বলি। এরপর তিনি আমার স্বামী ও পরিবারকেও হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে গত মাসের প্রথম দিকে সচিব স্যার (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়), ডিজি (পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর) স্যারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে আমি লিখিতভাবে ঘটনাটি জানিয়ে ফোরকান উদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা