kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

দুদকের প্রতিবেদন

গণপূর্তের ১০ উৎসদুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি, অস্বাভাবিক মূল্য প্রাক্কলন, মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রকল্প পাস করাতে ছোট ছোট প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি এবং সেবা প্রদানে কর্মীদের অসহযোগিতাসহ গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজে ১০ উৎসদুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের ‘গণপূর্ত অধিদপ্তর সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম’ অনুসন্ধান করে এসব উেসর সন্ধান পেয়েছে। গতকাল বুধবার দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২০টি সুপারিশসহ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছে দুদক।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্তের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারের তথ্য ফাঁস, এজেন্ট ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

এ ছাড়া মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দ থাকা কোটি কোটি টাকার কাজ ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন না করে পছন্দের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে ছোট ছোট লটে ভাগ করার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া অনেক সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে প্রতিষ্ঠান খোলা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যত কর্মকর্তারাই কাজ করেন। এ ছাড়া অপছন্দের ঠিকাদারকে নন-রেসপন্সিভ করা, কাজের অস্বাভাবিক মূল্য প্রাক্কলন করা, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে নিম্নমানের পণ্যসামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্প প্রণয়ন, তদারকি, বাস্তবায়ন ও পরীক্ষণ কাজে ধীরগতি, প্রকল্পের প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম দেওয়া, অনাবশ্যক প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব, প্রত্যাশী সংস্থার প্রয়োজনমতো জরুরি ভিত্তিতে কাজ সম্পাদন না করা, সেবা প্রদানে বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে দুদক। এ ছাড়া কাজ শেষ করে ঠিকাদাররা বিল জমা দিলেও নানা অজুহাতে বিল আটকে রাখা এবং বিলম্ব করার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

আর্থিক বিনিময়ের মাধ্যমে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও ঠিকাদারদের আংশিক বিল প্রদান করা হয়। অনৈতিক অর্থ না দিলে পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয় না।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ ধরনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে দুদকের পক্ষ থেকে। সব ধরনের টেন্ডার ই-জিপির মাধ্যমে সম্পন্ন করা, উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প পাস করানো, প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন করার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার তৈরি, তদারকি ব্যবস্থা জোরদার, অহেতুক প্রকল্প ব্যয় ও সময় না বাড়ানোর সুপারিশ করেছে দুদক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা