kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

আবরার হত্যাকাণ্ড

ছাত্রদলের বিক্ষোভে বাধা, হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রদলের বিক্ষোভে বাধা, হামলা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করলে তাতে ছাত্রলীগের হামলা ও পুলিশি বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাতে হামলা চালান। এতে জবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিজানুর রহমান নাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক আলি হাওলাদার, মিজানুর রহমান শরীফ, শামসুল আরেফিন, জাহিদসহ ১০ জন আহত হন। এ সময় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলি হাওলাদার ও জাহিদকে আটক করে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আবরারকে হত্যার প্রতিবাদে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় সমবেত হন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে কলা ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি অবকাশ ভবনের সামনে এসে পৌঁছলে ছাত্রলীগের ৮-১০ জন কর্মী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করেন তাঁরা। অন্যরা পালিয়ে গেলেও মিজানুর রহমান নাহিদ নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ধরে এ সময় বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আম্বুল্যান্সে করে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ছাড়া যুুুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শরীফের বাঁ হাত ভেঙে দিয়েছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।

এ ব্যাপারে জবি শাখা  ছাত্রদলের  সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক বলেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগ অতর্কিত  হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজনের মাথা ফেটে গেছে, হাত ভেঙে গেছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামালের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।  কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে রাজশাহীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে নগরীর ভুবন মোহন পার্ক এলাকায় অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করলে নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল সফল করতে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গতকাল সকালে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। পরে তাঁরা মিছিল শুরু করলে সেখানেই পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে নেতাকর্মীরা সেখানেই অবস্থান নেন এবং হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলে বাধার ব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক শাহীন আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের বিচার এবং ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে এ কর্মসূচি পালনকালে ছাত্রদলকে ধাওয়া করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন ছাত্রলীগের এক নেতা। গতকাল বুধবার সকালে প্রধান ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে শাখা ছাত্রলীগের পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক রাফা বিক্ষোভকারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ব্যানার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একটি লাঠি নিয়ে তাঁদের ধাওয়া দেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দৌড়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন।

এদিকে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রদল পুলিশের বাধায় বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, গতকাল দুপুরে জেলা বিএনপি দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা মিছিল বের করে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা সড়ক ধরে ১০০ মিটার না যেতেই পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পুলিশের বাধায় তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড হয়ে যায়। পরে তাঁরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পথসভা করেন।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র জগন্নাথ, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পঞ্চগড় প্রতিনিধি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা