kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

দুর্নীতিবাজের দুর্নীতিবিরোধী শোভাযাত্রা!

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাত-আট বছরের মধ্যে জিরো থেকে ‘হিরো’ হয়েছেন তিনি। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের টেন্ডারবাজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নজরদারিতে রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের। সেই তিনিই গতকাল নেতৃত্বে দিয়ে রাজশাহী নগরীতে করিয়েছেন দুর্নীতিবিরোধী শোভাযাত্রা। কিছু লোক ভাড়া করে এনে গতকাল বুধবার সকালে এই শোভাযাত্রা করান রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ বাবু। সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কয়েক দিন আগে তাঁকে শোকজও করা হয়।

গতকাল আশরাফ বাবুর নেতৃত্বে নগরীর শিরোইল কলোনি এলাকা থেকে দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক হয়ে শেষে একই এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে এই শোভাযাত্রা করেন বাবু। এ কারণে তাঁর এই শোভাযাত্রায় নগর আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় অন্য নেতাদের দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, আশরাফ বাবু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে অথবা প্রভাব খাটিয়ে শতকোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন। সে কাজগুলো নামকাওয়াস্তে করেই বিল উত্তোলন করেছেন। আবার কখনো কখনো কাজ না করে আগেই বিল তুলে নেন। পরে সামান্য কিছু কাজ করে পুরো টাকা লুটে নিয়েছেন।

রাজশাহীর একটি গোয়ন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিতর্কিত এই নেতা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেদিক থেকে আমরা নজর রাখছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনীর সদস্যদেরও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তাঁর বিষয়ে আরো অনুসন্ধান চলছে। গত কয়েক বছরে কিভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন তিনি, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আশরাফ বাবু নগরীর ডাবতোলা হাজরা পুকুর এলাকায় ছোট্ট একটি ওষুধের দোকানের ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি দোকানে দোকানে সাইকেল নিয়ে প্যারাসিটামল ও স্যালাইন বিক্রি করতেন। কোনোমতে সংসার চলত তাঁর। নগরীর শিরোইল এলাকায় একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। আশরাফ বাবু ২০১২ সালের দিকে রেলওয়ের বড় ঠিকাদার শহিদের মাধ্যমে রেল ভবনে যাতায়াত শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে শহিদের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নিজেই রেলওয়ের কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা টেন্ডারে কাজ বাগিয়ে নিতে শুরু করেন।

এখন কোটি কোটি টাকার মালিক আশরাফ বাবু। শিরোইল এলাকায় ব্যক্তিগত আলিশান কার্যালয়ে রয়েছে সিসি ক্যামেরাও। নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় রয়েছে তাঁর আলিশান বাড়ি। স্থানীয় মাদক কারবারিদের সঙ্গেও রয়েছে তাঁর সখ্য। তাঁর উত্থান নিয়ে নগরজুড়ে রয়েছে নানা কথা। এরই মধ্যে তাঁর সম্পদের উেসর খোঁজে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। বিষয়টি তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমার কাছে এসেছিল। আমার যা যা আছে, আমি বলে দিয়েছি। কোনো কিছুই লুকাইনি। আমি কোনো অনিয়ম করে টাকা কামাই করিনি। দলের নাম ভাঙিয়ে চলি না। বরং মহানগর যুবলীগের সভাপতিসহ যারা নানা অপকর্মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেই আমার অবস্থান। আমাকে শোকজও করা হয়েছে অন্যায়ভাবে।’

আশরাফ বাবু বলেন, ‘দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আমাকে শোকজ করা হয়। কিন্তু এই দপ্তর সম্পাদকের বিরুদ্ধেই রয়েছে জমি দখলের অভিযোগ।’

আশরাফ বাবু রেলের সংস্কার এবং মালামাল সরবরাহের কাজই বেশি করেছেন। এখনো রেলে তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দপ্তরে উচ্চমূল্যে আসবাবও সরবরাহ করেছেন। যেগুলোর বাজারমূল্যের সঙ্গে উত্তোলনকৃত বিলের আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। এর মধ্যে স্টিলের ১৪ হাজার টাকার চেয়ারের মূল্য তিনি নিয়েছেন ৮২ থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা