kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সরকার শিশুদের জন্য উন্নত জীবন চায় : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকার শিশুদের জন্য উন্নত জীবন চায় : প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল শিশু একাডেমি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের জন্য মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের থাবা থেকে মুক্ত উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। বিশ্ব শিশু দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে গতকাল বুধবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত করে আমাদের শিশুদের একটি সুন্দর ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবে, যাতে আজকের শিশুরা সামনের দিনগুলোতে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ লাভ করে। আমরা এই লক্ষ্য অর্জনেই কাজ করে যাচ্ছি।’ অনুষ্ঠানে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো।’

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে শিশুদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক।

তিনি বলেন, শিশুরাই জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। তাই ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সুশিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলাটা জরুরি, যাতে করে শিশুরা ভবিষ্যতে বিশ্বে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুদের সুন্দর জীবনের জন্য তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পাশাপাশি বিশ্বকে বাসযোগ্য করতে শিশুদের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনোদন ও কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, সরকার জাতীয় শিশুশ্রম বিলোপ নীতি-২০১০, জাতীয় শিশুনীতি-২০১১, ইন্ডিভিজুয়ালস উইথ ডিস-এবিলিটিজ-২০১৩, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আইন-২০১৮ ও বাংলাদেশে শিশু একাডেমি আইন-২০১৮ প্রণয়ন করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুল থেকে ঝরে পড়া রোধ, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলারও প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের শিশুরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে।’ এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুদের খেলার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, শিশুরা বিদেশের মাটিতে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, খেলাধুলায় মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ তার হারানো সম্মান ফিরে পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ টানা ১১ বছর ধরে এই অর্জন ধরে রেখেছে উল্লেখ করে এই সম্মান ধরে রাখার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম এবং ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ভেরা মেনডোনকা বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

দুই শিশু রওনক জাহান ও আদিল কিবরিয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং অন্য দুই শিশু মাহজাবিন ও আবদুল্লাহ আল হাসান শিশুদের পক্ষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে শিশুদের লেখা চিঠির একটি সংকলন এবং একটি শিশুর আঁকা তাঁর পোর্টট্রেট শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন এবং ফটোসেশনে অংশ নেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে সাজানো কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং শিশু একাডেমি চত্বরে বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিদর্শন করেন। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বই এবং তাঁদের ওপর লেখা বই রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নতুন করে সাজানো শেখ রাসেল গ্যালারি ও শেখ রাসেল চিলড্রেন মিউজিয়ামে শেখ রাসেল আর্ট গ্যালারি পরিদর্শন করেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা