kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রতিমা বিসর্জনে সমাপ্তি হলো দুর্গোৎসবের

‘এবার মা দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন, যা অমঙ্গলের চিহ্ন। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছি সব অকল্যাণ যেন দূরে সরে যায়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিমা বিসর্জনে সমাপ্তি হলো দুর্গোৎসবের

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উত্সবের সমাপ্তি টানে ভক্তরা। ছবিটি গতকাল রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজঘাট এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় ‘আনন্দময়ীর’ নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমার বিসর্জনে তা সাঙ্গ হলো। ভক্তদের আনন্দ-অশ্রুতে সিক্ত হয়ে বিদায় নিলেন অসুর দলনী দুর্গা। বাবার বাড়িতে বেড়ানো শেষে সন্তানদের নিয়ে দেবী দুর্গা কৈলাসে দেবালয়ে ফিরে গেলেন গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার আগেই।

অসুর বিনাশী দেবীর আগমন ঘিরে ভক্তদের মাঝে যে আনন্দ ছুঁয়ে গিয়েছিল তা গতকাল বিজয়া দশমীতে রূপ নেয় বিসর্জনের বিষাদে। সকালে দেবীর পূজাসহ বিসর্জন হয় মণ্ডপে মণ্ডপে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসর্জন শুরু হয় কোথাও বিকেল কোথাও সন্ধ্যায়। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে গতকাল দেবী দুর্গাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানান ভক্তরা।

রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে বিকেল ৪টায় বেশির ভাগ মণ্ডপের প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা চলে বুড়িগঙ্গা তীরের ওয়াইজঘাটের দিকে। সন্ধ্যায় শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। এ ছাড়া তুরাগ নদের ঘাটেও শোভাযাত্রাসহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। 

ষষ্ঠীতে বেলতলায় দেবী দুর্গার নিদ্রাভঙ্গের বন্দনার মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল দুর্গোৎসবের। তার শেষ হলো বিজয়া দশমীতে। গতকাল সকালে বিহিতপূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি ঘটে।

সকালে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে দেবী দুর্গার চরণে ভক্তরা প্রণতি জানান। তাঁরা নিবেদন করেন পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ। সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির বা বনানী খেলার মাঠের মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মাতেন ভক্তরা। সৃষ্টি হয় এক অন্য রকম আবহ। তার পরই শুরু হয়ে যায় দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। রাজধানীসহ সারা দেশের মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায় প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে ভক্তদের মাঝে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা গাঢ় হতে থাকে।

বিকেল ৪টায় রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। তখন ভক্তরাও ট্রাকে ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে চলছিলেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোভাযাত্রায় যুক্ত হয় বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা। সেখান থেকে বিজয় শোভাযাত্রা নিয়ে ওয়াইজঘাট, তুরাগ, ডেমরা, পোস্তগোলা ঘাটে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর শুরু হয় বিসর্জন। প্রতিমা বিসর্জনের পর মন্দিরে ‘শান্তির জল’ নিয়ে আসা হয়। পরে ভক্তরা আশীর্বাদ নিয়ে ঘরে ফিরে যান।

ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার মা দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন, যা অমঙ্গলের চিহ্ন। আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছি সব অকল্যাণ যেন দূরে সরে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা