kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নন্দীগ্রাম-কাহালুর রাজনীতি

অন্তঃকোন্দলে ঘাঁটিতে ডুবছে বিএনপি

এমপি মোশারফের বিরুদ্ধে উন্নয়ন বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি। একসময় বিএনপির প্রতাপ থাকলেও এখন তা শূন্যের কোঠায়। দলীয় কার্যক্রম এখন রাজপথ ছেড়ে নেতাদের ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালে বন্দি। অনেক নেতাকর্মীই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে ভিড়ে গেছেন। বাকিদের অনেকে হয়ে গেছেন নিষ্ক্রিয়। তবে কার্যক্রম না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে রয়েছে দলীয় কোন্দল। এ অবস্থায় দুই উপজেলায় নেতাকর্মী আর সমর্থকের ছড়াছড়ি থাকলেও সাংগঠনিক সংকট বেড়ে গেছে অনেক।

নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা মিলে বগুড়া-৪ সংসদীয় আসন। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপির মো. মোশারফ হোসেন। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে এমপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দলে বিভক্তি তৈরি করেছে। কয়েক ভাগে বিভক্ত সংগঠনে তিনি নিজেই এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার দলের ভেতর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে উন্নয়ন বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দুই উপজেলায় বিএনপির একাধিক গ্রুপ সক্রিয়। আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে এই কোন্দল আর গ্রুপিং আরো বেড়েছে। আর এই বিরোধকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা বিএনপিতে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভক্ত বিএনপির একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমপি মোশারফ হোসেন। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাফি পান্না ও সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা। ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতাই এই দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

এ ছাড়া কাহালুতে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কাজী আব্দুর রশিদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা আছেন এমপি মোশারফের সঙ্গে। এ ছাড়া সাবেক সভাপতি ফরিদুর রহমান পৃৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন সামনে রেখে বর্তমানে অনেকেই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ পদ ধরে রাখতে আবার কেউ সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনতে শুরু করেছেন লবিং-তদবির। আর সুবিধাবাদী এসব নেতার দৌড়ঝাঁপে আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন দলের যোগ্য ত্যাগী নেতারা।

মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমপি মোশারফ দুই উপজেলায় নিজের মতো করে রাজনীতি করে চলেছেন। এর পাশাপাশি তাঁর স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এই আসনে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিপর্যয় নেমে আসছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই দল পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এমপির সঙ্গে দলের একটি বড় অংশের দূরত্ব তৈরি হয়। আকাঙ্ক্ষার চেয়ে প্রাপ্তি বেশি হওয়ায় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে ‘অ্যাডজাস্ট’ করে চলতে পারছেন না।

বঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ, এমপি মোশারফ ত্যাগী নেতাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নিজ পরিবারের সদস্য ও আস্থাভাজনদের নিয়ে বিভিন্ন কমিটি করার জন্য জেলায় জমা দিয়েছেন। এমনকি ইউনিয়ন-গ্রাম পর্যায়েও তিনি নিজের অনুগত লোকজন এবং আত্মীয়-স্বজনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

কাজী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘এই উপজেলায় বিএনপি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে সবাই এক ছিল। অথচ নির্বাচনের পর হঠাৎ করেই কী কারণে এমন বিভক্তি দেখা দিল তা বলতে পারব না।’

নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এমপি মোশারফ আগের মতো এখন আর খুব একটা যোগাযোগ করেন না। সংগঠনের কমিটিগুলোতে কাকে জায়গা দিচ্ছেন আর কাকে দিচ্ছেন না তা কাউকে বলেন না, জিজ্ঞাসাও করেন না। আমরাও শুনতে চাই না। তিনি তাঁর মতো করেই রাজনীতি করুন, আমরা সঙ্গে নেই।’

এদিকে সংসদীয় এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এমপি মোশারফের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, নন্দীগ্রামে চলতি বছর গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা- দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১১৫ টন খাদ্যশস্য এমপির নামে বরাদ্দ আসে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর- দ্বিতীয় পর্যায়) কাজে বরাদ্দ মেলে ২৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। আবার কাহালু উপজেলায় অনুরূপ দুটি খাতে বরাদ্দ পাওয়া যায় ১২০ টন খাদ্যশস্য ও ২১ লাখ টাকা। দেখা গেছে, বেশির ভাগ প্রকল্পেই ২০ শতাংশও কাজ হয়নি। প্রকল্পের সমুদয় টাকাই হরিলুট হয়েছে।

এমপি মোশারফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ছিল বেশি। তাঁরাই এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি দলে কোনো বিভাজন রাখিনি। প্রবীণ-নবীন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করছি। আর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে শুরুতে কিছুটা অনিয়ম হলেও এখন যথাযথভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা