kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

কালের কণ্ঠকে জয়ীতা ভট্টাচার্য

ভারত এবার অন্য এক বাংলাদেশকে দেখেছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, নয়াদিল্লি থেকে   

৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারত এবার অন্য এক বাংলাদেশকে দেখেছে

ড. জয়ীতা ভট্টাচায

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদ্যঃসমাপ্ত নয়াদিল্লি সফরে ভারত অন্য এক বাংলাদেশকে দেখেছে বলে জানিয়েছেন নয়াদিল্লিভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রগ্রামের সিনিয়র ফেলো ড. জয়ীতা ভট্টাচার্য। চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী গত রাতে ঢাকায় ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে গতকাল রবিবার দুপুরে ড. জয়ীতা ভট্টাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই সফরে দৃশ্যমান বড় অগ্রগতি যদি বলা যায় সেগুলো হলো—চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও ফেনী নদীর পানি নিয়ে চুক্তি। আরেকটি বড় বিষয় হলো—কানেকটিভিটি (যোগাযোগ)। আর এবার আমি যেটি দেখেছি সেটি হলো অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘এই সফরে শেখ হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন তা হলো বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটি একটি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ এবং আলাপ-আলোচনায় সমানে সমান।’

প্রতিবেশীদের ব্যাপারে ভারতের নীতি, কানেকটিভিটি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া জয়ীতা ভট্টাচার্য বলেন, “এবারের ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ ও কথা বলার ধরন দেখলে বোঝা যাবে এর মধ্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনেক আত্মবিশ্বাস, বাংলাদেশের সাফল্য আছে। বাংলাদেশ কোনোভাবেই আর পিছিয়ে নেই। তিনি দেখিয়েছেন, প্রতিবেশীর আচরণ কেমন হওয়া উচিত। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কটা কেবল লেনদেনের হওয়া উচিত নয়।”

এবারের সফরে ভারতকে শেখ হাসিনার দেওয়া বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বোঝাতে চেয়েছেন, প্রতিবেশী আমি। আমি তোমার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করব। তুমি আমার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের হাত বাড়াবে। আমরা সমানে সমান। আমি ঠিক এভাবেই দেখি।’

ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চীনের জন্য স্পর্শকাতর হতে পারে কি না জানতে চাইলে জয়ীতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার তো মনে হয় না এটি নিয়ে কোনো স্পর্শকাতরতা থাকতে পারে। কারণ সেটা তো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের লোকের কাছেই যাবে। বাংলাদেশই সেটি পরিচালনা করবে। সেখানে ভারতের কী করার আছে? আমরা কেবল বাংলাদেশকে সরঞ্জাম দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বলতে গেলে তো আমাদেরও ইস্যু থাকতে পারে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী চীনা সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এ নিয়ে আমাদেরও ইস্যু আছে। সেটাকে এভাবে না দেখে নিজের সামরিক বাহিনী ও সংস্থার ওপর বিশ্বাস থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী যথেষ্ট স্মার্ট। আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, ১৯৮০-র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আর এখনকার সেনাবাহিনী এক নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিন্তু নিজেদের যোগ্যতা, সামর্থ্য প্রমাণ করেছে।’

পানিবণ্টন চুক্তির আগেই মানবিক কারণে ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ কী উদারতা দেখাল?—এই প্রশ্নের জবাবে জয়ীতা ভট্টাচার্য বলেন,  ‘আমরা সমানে সমান হয়ে কথা বলব। আমরা এটি করেছি। মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিন্তু সরেনি। কিন্তু আমরাও তো টিপাইমুখ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছি। টিপাইমুখ প্রকল্প হলে হয়তো অনেক এলাকায় লোকজনের উন্নয়ন হতো। কিন্তু আমরা বলেছি, এর দরকার নেই। বন্যা—এটি আমরা অন্যভাবে মোকাবেলা করব। সেটিও (টিপাইমুখ প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরে আসা) মানবিক বিষয়, এটিও (ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া) মানবিক বিষয়। সেটিকে আমাদের দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এবারের সফরের সৌন্দর্য হলো—তিনি বলেছেন বাংলাদেশ-ভারত একটি বিশেষ সম্পর্ক। মানবিক বিষয় এখানে আছে। আর সব বিষয় আমরা এত দরকষাকষি করে দেখব কেন? কিছু বিষয় তো এমনিতেই করা উচিত। সেই দিক থেকে তিনি এবারের সফরে বাংলাদেশকে অনেক ওপরে তুলে দিয়েছেন। সেটিও বাংলাদেশের জনগণকে দেখতে হবে। বাংলাদেশকে তার গর্বের বিষয়টিও দেখতে হবে। সব সময় কেবল দরকষাকষি করলে হবে? জয়ীতা ভট্টাচার্য বলেন, ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক দরকষাকষির মধ্যে পড়তে যাচ্ছিল। সেটাকে ছেড়ে দিলে সম্পর্কটা কত সুন্দর হয়েছে তা তিনি দেখিয়েছেন। এই সফরে বাংলাদেশ কোথায় পৌঁছেছে! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের অর্জন ও সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।

হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের সফরে তুলেছেন। জয়ীতা ভট্টাচার্য বলেন, ‘অবশ্যই একে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এটা কোনো কথা নাকি? আন্তর্জাতিকভাবে তুমি (ভারত) যা করছ ঠিক আছে। কিন্তু ইতিমধ্যে যে ট্রাকগুলো সীমান্তে আছে (বাংলাদেশে যাওয়ার অপেক্ষায়) সেগুলোকে তো যেতে দেওয়া উচিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা