kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কালের কণ্ঠকে ইতালির রাষ্ট্রদূত

উন্নয়নে ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায় ইতালি

মেহেদী হাসান   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অংশীদার হিসেবে ইতালি বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত সহযোগিতা এবং এ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত এনরিকো নুনসিয়াতা। গত সপ্তাহে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতার পটভূমিতে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময় পার করছে। বর্তমান সরকারের বড় রাজনৈতিক সমর্থন আছে। নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের নিশ্চয়তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে দেশের বড় জনগোষ্ঠী। এটি এ দেশের নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ এ সরকারকে তার উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহাযোগিতা ও অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অত্যন্ত চমৎকার। ভারতীয়, আরব, তুর্কি, আফগান, পার্সি ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাব বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশিদের ধর্মীয় বিশ্বাস, জীবনযাপন, ঐতিহ্য, রসনা ও উৎসবের পাশাপাশি এ দেশের শিল্পকলা, স্থাপত্য, সাহিত্য, সংগীত ও নৃত্যে এর প্রভাব পড়েছে। এ দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের গতিশীলতাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে। এখানকার কনিষ্ঠতম শিল্পীর কাজের ধারাও আন্তর্জাতিক শিল্পকলার ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এনরিকো নুনসিয়াতা বলেন, এত বিশাল এক ‘শরণার্থী’ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ তার নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় দিয়ে যে উদারতা ও মহানুভবতা দেখিয়েছে ইতালি তার প্রশংসা করে। এই বোঝা কমাতে ইতালি সরকার শুরু থেকেই কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করছে। এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে তাদের গ্রামে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে ফেরাকে সম্ভাব্য সব আন্তর্জাতিক ফোরামে ইতালি সমর্থন করছে।

হলি আর্টিজান হামলা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সন্ত্রাসী হামলায় ৯ জন ইতালীয় নিহত হয়েছেন। তাঁরা বাংলাদেশে কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়েই থাকতেন। তখন থেকেই নিরাপত্তা সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাস দমন, দেশেকে নিরাপদ রাখা এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক দেশগুলোতে ইতালির ১১তম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য বাংলাদেশ। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ কোটি ইউরোরও বেশি। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আমাদের রপ্তানি ছিল ৮২ কোটি ১৬ লাখ ইউরো। ২০১৯ ও ২০২০ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ কোটি ইউরো বাড়বে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা যে পরিমাণ রপ্তানি করি তার চেয়ে বেশি এ দেশ থেকে আমদানি করি। আমার হিসাব অনুযায়ী, আগামী দিনে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে রপ্তানি ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়বে।’

রাষ্ট্রদূত এনরিকো বলেন, বাংলাদেশে ইতালির রপ্তানির মূল খাত হলো টেক্সটাইল যন্ত্রসামগ্রী। এরপর আছে ইলেকট্রনিক, কেমিক্যাল, গাড়ি। এ দেশের অবকাঠামো ও জ্বালানি, খাদ্য, ট্যানারি, জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক শিল্প ও বন্যার পানি ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে ইতালির কম্পানিগুলোর অনেক সুযোগ আছে।

ইতালির মোনফালকোনের ফিনকানতিয়ারি শিপইয়ার্ডে পাঁচ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করছেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক খাতগুলোতে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ও ইতালির ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি অ্যাসোসিয়েশন গড়ার পরিকল্পনা করছি। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আরো বেশি হারে ইতালির কম্পানিকে এ দেশে আনতে ইতালি দূতাবাস প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।’

ইতালিতে বিশাল বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর কথা বলতে গিয়ে এনরিকো নুনসিয়াতা বলেন, ‘প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করছে। বৈধ অভিবাসনের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করি। বৈধ অভিবাসন ইতালিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। রেমিট্যান্সের কথা বিবেচনা করলেও দেখা যাবে, ২০১৮ সালে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিরা ৭০ কোটি ইউরোরও বেশি অর্থ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা