kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ছাত্রাবাস আর যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা নামমাত্র

গৌরাঙ্গ নন্দী খুলনা   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রাবাস আর যাতায়াতের সুযোগ-সুবিধা নামমাত্র

নাহিদা আক্তার শাম্মী বিএল কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। থাকেন খুলনা শহরের লবণচরা এলাকায়। প্রতিদিন ১১ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে তাঁকে কলেজে আসতে হয় ক্লাস করার জন্য। এ দূরত্ব পাড়ি দিতে তাঁকে প্রতিদিনই বিপত্তিতে পড়তে হয়। কারণ বাসা থেকে বেরিয়ে প্রথমে রিকশা অথবা হেঁটে অটোরিকশা ধরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আসতে হয়। সেখান থেকে আবারও অটোরিকশায় চড়ে পৌঁছতে হয় ক্যাম্পাসে। এতে প্রায় দিনই যথাসময়ে ক্লাসে পৌঁছানো হয়ে ওঠে না। আবার কোনো দিন পৌঁছতে পারলেও পথের ধকল সামলে ক্লাসে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারেন না।

বিএল কলেজের অবস্থান খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরে। খুলনা, যশোর, বাগেরহাটসহ আশপাশ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হয়। এ ক্ষেত্রে কলেজে যাতায়াতে দূরের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। কলেজটি শুরুর একপর্যায়ে নগরী থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা ছিল। অনেক দিন আগেই তা বাতিল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শুধু শাম্মী নয়, বিএল কলেজের ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর বেশির ভাগকেই নিত্যদিন কমবেশি ভোগান্তি সঙ্গী করে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। সহজ যাতায়াতব্যবস্থা না থাকায় ক্লাসে শিক্ষার্থী হাজিরাও অনেক কম।

শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজের আবাসন সুবিধা খুবই সীমিত। ফলে অনেক দূরের শিক্ষার্থীদের অতি ক্ষুদ্র অংশই এ আবাসন সুবিধা পেয়ে থাকে। বিশাল একটি অংশ নির্ভর করে কলেজের আশপাশে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা মেসগুলোর ওপর। আরেকটি অংশ বেসরকারি পরিবহনব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

জানা যায়, কলেজে ছাত্রাবাস আছে পাঁচটি ও ছাত্রীনিবাস দুটি। ছাত্রাবাসগুলোর মধ্যে তিতুমীর হল, মুহসীন হল, ড. জোহা হল, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও সুবোধ চন্দ্র ছাত্রাবাসে মোট ৩৮৯ জন এবং দুটি ছাত্রীনিবাসে ১৮৮ জন অবস্থান করছে। সুবোধ চন্দ্র ছাত্রাবাস, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও ড. জোহা হল জরাজীর্ণ। সুবোধ চন্দ্র ছাত্রাবাসে সামান্য সংস্কারকাজ হলেও এখনো যথাযথ বাসোপযোগী হয়নি। বাকি ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকেই ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করে ক্লাসে আসতে হয়। কলেজের নিজস্ব পরিবহনব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ৫২ আসনবিশিষ্ট চারটি বাস ও একটি মাইক্রোবাস। তবে বাসগুলো সময়মতো চলে না বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।

আবাসনব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম আলমগীর হোসেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আবাসন সমস্যাটি বেশ পুরনো। কলেজে পাঠদানের জন্য বিভাগ বাড়লেও শিক্ষার্থীদের আবাসনব্যবস্থার কলেবর বাড়েনি। তবে কলেজের নিজস্ব চারটি বাস আছে, যা নির্দিষ্ট রুটে সময় মেনে চলাচল করে। শিগগিরই আরো দুটি বাস নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটে নিয়ম ধরে চলতে শুরু করবে।’

একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা সহসাই দূর হবে এমনটা হওয়ার সুযোগ কম। কারণ এটি সামগ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনার অংশ। তবে সমস্যাটি মোটামুটি সহনশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়াটা জরুরি। এ ক্ষেত্রে খুলনা-দৌলতপুর-নওয়াপাড়া শাটল ট্রেন চালু করলে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবে।

সহশিক্ষা কার্যক্রম : কলেজে সহশিক্ষা হিসেবে রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, গার্ল গাইডস, বিএল কলেজ থিয়েটার ও ডিবেটিং ক্লাব রয়েছে। তবে এগুলোর কার্যক্রম সহসা চোখে পড়ে না। একসময় থিয়েটারের বেশ কার্যক্রম ছিল। কর্মমালার মধ্যে দিয়ে নাটক তৈরি ও প্রদর্শিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ এবং সমসাময়িক ঘটনার ওপর বেশ কিছু নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। আছে দুটি খেলার মাঠ। আবাসন শিক্ষার্থীদের যৎসামান্য চর্চার মধ্য দিয়ে তা টিকে আছে।

সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার : কলেজের বিভাগগুলোতে পৃথক সেমিনার গ্রন্থাগার ছাড়াও ক্যাম্পাসে একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার রয়েছে। এখানে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। গ্রন্থাগারে ৫০ হাজারের বেশি বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে। আছে পুঁথি এবং কয়েক হাজার জার্নাল। শিক্ষার্থীরা এখানে বসে প্রয়োজনীয় বই পড়ার পাশাপাশি ধারে বাসায়ও নিতে পারে। নিয়মিতভাবে গ্রন্থাগারটিতে ১০০ থেকে ১৫০ জন পাঠক আসে। তবে তারা রেফারেন্স বইয়ের চেয়ে গাইড বই বেশি খোঁজে।

লাইব্রেরির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক শঙ্কর কুমার মল্লিক জানান, লাইব্রেরিটি অটোমেশনের (ডিজিটাল) পরিকল্পনা রয়েছে। এটিকে আরো আকর্ষণীয় ও পাঠকনির্ভর করে তুলতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে লাইব্রেরির উদ্যোগে প্রতি মাসে মনীষীদের জীবনীভিত্তিক আলোচনাসভার আয়োজন করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা