kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের শঙ্কা

স্বপন চৌধুরী রংপুর   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের শঙ্কা

রংপুর-৩ (সদর) আসনে উপনির্বাচনের ভোট আগামী ৫ অক্টোবর। সে হিসাবে আর বাকি দিন দশেক। এরই মধ্যে জমে উঠেছে প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় থাকা তিনজন জাতীয় পার্টির সাদ এরশাদ, বিএনপির রিটা রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ-প্রান্তর। তবে এই তিন প্রার্থীর কেউই নিষ্কণ্টক নন।

সাদ এরশাদকে প্রার্থী করা নিয়ে জাতীয় পার্টিতে কোন্দল এখনো বিদ্যমান। সে কারণে তৃণমূল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সাদের সঙ্গে মাঠে নেই। রিটা রহমানকে তাড়া করছে ‘বহিরাগত’ গন্ধ। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও সেভাবে তাঁর পাশে নেই। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এরশাদের ভাতিজা। তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু এরশাদ বেঁচে থাকাকালেই তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হন। এসব কারণে এরশাদবিহীন রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে দেখা দিয়েছে জটিল সমীকরণ।

এদিকে উপনির্বাচনে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সেই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু না হওয়ায় সেই আশঙ্কা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে সব ধরনের বৈধ অস্ত্র জমাদানের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে। তবে কমিশন থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত এসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পায়নি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস।

সূত্র জানায়, রংপুরে লাইসেন্স করা শতাধিক অস্ত্র রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব বৈধ অস্ত্র জমাদানের নির্দেশনা দেওয়া থেকে বিরত ছিল নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচনের সাত দিন আগে সব ধরনের বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল।

একাধিক রাজনীতিবিদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র জমা না নেওয়ায় অনেক স্থানেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। আগামী ৫ অক্টোবরের ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবে—এমনটাই সবার প্রত্যাশা। তবে এবারও বৈধ অস্ত্র জমা না নিলে অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটা অসম্ভব কিছু নয়।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিফ আহসান গতকাল জানান, বৈধ অস্ত্র জমাসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বা চিঠি নির্বাচন অফিস থেকে তাঁরা পাননি। চিঠি পেলেই বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহতাব উদ্দিন জানান, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি। নির্দেশনা এলেই অস্ত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আলতাফ হোসেন বলেন, ঘোষণা দিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামা ঠিক নয়। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যা যা করণীয় দরকার তা-ই করবে। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চলমান।

বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রচারে আমাকে যেভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে তাতে নির্বাচনে গোলযোগের আশঙ্কা করছি। বিষয়টি দু-এক দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নির্বাচন অফিসে জানাব।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার বলেন, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার পাশাপশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করাটা জরুরি।

নির্বাচন ঘিরে বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে মনে করেন গণফোরাম জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদ পরিবারের দুই সদস্য। দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এরশাদপুত্র সাদ, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার। স্থানীয় ও বহিরাগত উপাধি নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দুই ভাই। জমে উঠেছে দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ।

আসনটি দীর্ঘ ২৮ বছর দখলে ছিল এরশাদের। এটি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে জাতীয় পার্টি। সে কারণেই প্রার্থিতা দেওয়া হয়েছে এরশাদপুত্র সাদকে। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এরশাদের ছোট ভাইয়ের ছেলে আসিফ শাহরিয়ার। তিনি ভোটারদের কাছে গিয়ে বলছেন—সাদ বহিরাগত। তিনি জাতীয় পার্টির কেউ নন, কোনো দিনও রংপুরে আসেননি। ভোট শেষে আবারও বিদেশে চলে যাবেন। পক্ষান্তরে তিনি সপরিবারে রংপুরেই থাকেন।

অন্যদিকে সাদ জানান, আসিফ তাঁর ভাই। তিনি নির্বাচন করতেই পারেন। এ বিষয়ে তাঁর বলার কিছু নেই। শুধু আসিফ নন, সব প্রার্থীকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন।

নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, দুই ভাই আসিফ শাহরিয়ার ও সাদ এরশাদের মাঝে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান জোটের অন্য শরিকদের মাঠে নামাতে পারলে তিনিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসতে পারেন—এমনটা মনে করছেন ভোটাররা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা