kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

মহাজোটগত প্রচারে সমঝোতা হয়নি

স্বপন চৌধুরী রংপুর   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহাজোটগত প্রচারে সমঝোতা হয়নি

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে মহাজোটগত প্রচারের বিষয়ে সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা থাকায় তারা ভোটের তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের একটি সংগঠন ভোট বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে।

মহাজোটগত প্রচারে সমঝোতা হয়নি : ভোটের প্রচারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি। এই লক্ষ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর একটি পার্কে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতারা বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে জাতীয় পার্টির রংপুর জেলা ও মহানগরের বেশির ভাগ শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, দলের প্রার্থী এরশাদপুত্র রাহগীর আল মাহী সাদ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ রাজ্জাক। আর আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিলেন রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি সাফিউর রহমান সফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে যৌথভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামার প্রস্তাব দেওয়া হলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তৃণমূল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে না থাকায় যৌথভাবে নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ ছাড়া বৈঠকে নির্বাচনী কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দলীয় সভা ডেকেছে। বৈঠকে উপনির্বাচনে দলের অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা হবে। পরে এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের জানানো হবে। জেলা আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সভায় রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন ও জেলা সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হবে।’

গত শুক্রবারের বৈঠক সম্পর্কে আওয়ামী লীগের মহানগর শাখার সভাপতি সাফিউর রহমান সফি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মহাসচিব সভায় যেতে অনুরোধ করেছেন, তাই গিয়েছি। সেখানে মূলত তাঁদের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ভোটের প্রচারে থাকতে আহ্বান জানানো হয়। আমরা বলেছি, রাজনৈতিক কারণে আমাদের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করেছি। তার পরও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আপনাদের সঙ্গে কিভাবে থাকব, তা পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান হবে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না জাতীয় পার্টির মহানগর শাখার সভাপতি রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, সিটি  মেয়র মোস্তফা যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতি একমত হয়ে তাঁরা সাদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন না।

প্রার্থীদের প্রচার : জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকাসহ রংপুর সদর উপজেলার উন্নয়নবঞ্চিত এলাকার ভোটারদের মন জয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই শহরের চেয়ে ওই সব এলাকায় লাঙলের প্রার্থীর প্রচার বেশি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার (আসিফ শাহরিয়ার) জাতীয় পার্টির একাংশের পাশাপাশি হিন্দু ও অবাঙালি ভোটারদের ভোট টানতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নির্বাচনী মাঠ ঘুরে জানা গেছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিমান ভাঙিয়ে যে প্রার্থী তাদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারবেন, ভোটের পাল্লা তাঁর দিকেই ঝুঁকে থাকবে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান দলের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতসহ অন্য শরিকদের ভোট ধরে রাখার চেষ্টায় রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে রিটা রহমান ৫৩ হাজার ভোট পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। এবার তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা