kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১৭১ শিক্ষক

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১৭১ শিক্ষক

খুলনা নগরীর দৌলতপুরে ভৈরব নদের তীর ঘেঁষে ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজ। ১৯০২ সালে ব্রজলাল শাস্ত্রী (চক্রবর্তী) নামের এক বিদ্যানুরাগী কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। সময় পরিক্রমায় এটি খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে।

সর্বজনীন এ বিদ্যায়তনে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। খুলনা তো বটেই, যশোর, বাগেরহাটসহ আশপাশের দূরদূরান্ত থেকেও শিক্ষার্থীরা বিএল কলেজে ভর্তি হয়ে থাকে। আর এখানে সর্বমোট শিক্ষক আছেন মাত্র ১৭১ জন। অর্থাৎ গড়ে একজন শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। রয়েছে অবকাঠামোগত সংকটও। এ অবস্থায় এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

১৯০২ সালের ২৭ জুলাই মাত্র দুটি টিনশেড ঘরে ক্লাস শুরু হয় বিএল কলেজের। ১৯০৭ সালে এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠাতা ব্রজলাল শাস্ত্রী ১৯৪৪ সালে মারা যাওয়ার পর কলেজের নামকরণ করা হয় ব্রজলাল হিন্দু একাডেমি। পরে একাডেমিকে কলেজে উত্তীর্ণ করা হয় এবং নাম দেওয়া হয় বিএল কলেজ। কলেজটি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। এটি সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয় ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই।

সরকারি বিএল কলেজে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ২১টি ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ে ১৮টি বিষয়ে পড়ানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রাইভেট স্নাতক (পাস) ও স্নাতকোত্তর (প্রথম ও শেষ পর্ব) কোর্স চালু রয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে আবারও এখানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠদান শুরু হয়েছে। এভাবে দিনে দিনে শিক্ষার্থী বেড়েছে, চালু হয়েছে নতুন নতুন বিভাগ; কিন্তু সে তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি।

জানা যায়, বিএল কলেজে বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী একটি বড় বিভাগে (বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ইত্যাদি) ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। এঁদের মধ্যে সাধারণভাবে একজন অধ্যাপক, দুজন সহযোগী অধ্যাপক এবং ৯ জন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক রয়েছেন। ছোট বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচ থেকে ছয়জন। এতে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

কলেজটির একাধিক শিক্ষক জানান, চাপ থাকায় একেকটি ক্লাসে কোনো কোনো বিভাগে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীও ভর্তি করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনমাফিক পাঠদান সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রথমত, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ঠাঁই দেওয়াটা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তা ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা খুবই কম। বছরে যত দিন শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকার কথা, তত দিন ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। আবার সেশনজট কমানোর জন্য কোর্স শেষ করার একটি চাপ থাকে। এ অবস্থায় অনেক সময়ই নামকাওয়াস্তে ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করা হয়। কখনো কখনো ছয় মাসে এক বছরের কোর্স শেষ করতে হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি শিক্ষকদের জন্যও স্বস্তিকর হয় না।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, কোনো বিভাগেই ২০০-এর নিচে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। কোনো কোনো বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন শতাধিক। শিক্ষার্থীরা শুরুতে বেশ আগ্রহ নিয়েই ক্লাসে আসে। কিন্তু ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। কারণ স্বাভাবিকভাবে একটি শ্রেণিকক্ষে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা নেই। আবার শিক্ষকরা ক্লাসের শুরুতে হাজিরার নাম ডাকতে ডাকতেই নির্ধারিত সময়ের অর্ধেকটা শেষ হয়ে যায়। এরপর শিক্ষক কোনো একটি বিষয়ে লেকচার শুরু করতে না করতেই সময় শেষ হয়ে যায়।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম আলমগীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বড় বিভাগগুলোর জন্য ১৮ জন এবং ছোট বিভাগগুলোর জন্য ১২ জন করে শিক্ষক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন। আশা করছি, এটি দ্রুতই অনুমোদন পাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা