kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

‘আগে মিন্নির জীবন বাঁচানো দরকার’

জবানবন্দির নামে উপন্যাস লেখা হয়েছে : আইনজীবী
রিমান্ডে নিয়ে পেটানো হয়েছে, মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে : বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আগে মিন্নির জীবন বাঁচানো দরকার’

চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শের জন্য গতকাল বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। পরে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আইনজীবী জেড আই খান পান্নাসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। সঙ্গে তাঁর বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও ছিলেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির শারীরিক অবস্থা ভালো না। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। ঘুমের মধ্যে লাফ দিয়ে ওঠেন, চিৎকার করে ওঠেন। পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে দুই দিন ধরে তাঁকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলেন মিন্নি। এ ছাড়া তাঁর হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় পেটানো হয়েছে। তাঁর গিঁটে গিঁটে ব্যথা। কারাগারে তাঁকে ব্যথার ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে ব্যথা দমিয়ে রাখার জন্য। বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে সাক্ষী থেকে আসামি করা তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার এমন বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ও বাবা।

গতকাল রবিবার মিন্নি চিকিৎসা ও আইনি পরামর্শের জন্য বরগুনা থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আইনজীবী জেড আই খান পান্নাসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। এ সময় সঙ্গে তাঁর বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও ছিলেন।

মিন্নির সঙ্গে একান্তে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলার পর জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেঁচে থাকলে মামলায় লড়া যাবে। কিন্তু জীবন যদি না থাকে তবে আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে কি কোনো লাভ হবে? এ কারণেই আগে মিন্নির জীবন বাঁচানো দরকার।’

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে মিন্নির সামনে তাঁর স্বামী শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মিন্নিকে স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

প্রায় দিনভর সুপ্রিম কোর্টে মিন্নি : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুপ্রিম কোর্টে আসেন মিন্নি। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর বাবা ছাড়াও ছিলেন নানাসহ কয়েকজন আত্মীয়। মিন্নি প্রথমেই তাঁর আইনজীবী পান্নার চেম্বারে (আইনজীবী সমিতি ভবনের তৃতীয় তলা) যান। কিন্তু তখনো এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী না আসায় জুনিয়র আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও মাহরিন মাসুদ ভূঁইয়া তাঁদের চেম্বারে বসার ব্যবস্থা করেন। কিছুক্ষণ পর জেড আই খান পান্না চেম্বারে আসেন। তখন মিন্নি তাঁর পা ছুঁয়ে সালাম করেন। তিনি আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এবং তাঁর ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। সাক্ষাতের পর আইনজীবী পান্না সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মিন্নিকে নিয়ে যাওয়া হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিনের চেম্বারে। সেখানে কিছুক্ষণ কথা বলার পর তাঁরা যান সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের চেম্বারে। এই চেম্বারে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান মিন্নি। সেখান থেকে বেরিয়ে আবার জেড আই খান পান্নার চেম্বারে যান। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেরিয়ে যান মিন্নি ও তাঁর আত্মীয়রা।

আইনজীবীর অভিযোগ : জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, মূলত দুটি কাজে মিন্নিকে ঢাকায় আসতে হয়েছে। প্রথম হলো, অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি (৩ অক্টোবর) রয়েছে। এখন কী করণীয় সে বিষয়ে আইনি পরামর্শের জন্য তাঁকে আসতে হয়েছে।

আইনজীবী বলেন, রিমান্ডে নিয়ে মিন্নির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ জন্য তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় আসতে হয়েছে।

জেড আই খান পান্না অভিযোগ করেন, ‘রিফাতের হত্যাকারী ও দোষী ব্যক্তিদের আড়াল করার জন্য, শাস্তি এড়ানোর জন্য পুলিশের একটি অংশ, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহল তৎপর। এ কারণে তারা শুধুই মিন্নিকে নিয়ে পড়ে আছে। 

‘জবানবন্দি নয়, এটা উপন্যাস’ : জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নির ১৩ পৃষ্ঠার জবানবন্দি হাইকোর্টে এনেছিল পুলিশ। তখন একনজর দেখার সুযোগ হয়েছিল। এখন দেখছি, এটা নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। ১৯ বছরের একটি মেয়ে এভাবে জবানবন্দি দিতে পারে না। দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ যেভাবে লেখা হয়েছে তা দেখলে মনে হবে এটা একটি উপন্যাস। এত সুন্দর করে লেখা।’ তিনি বলেন, ‘একজন পুলিশকে যদি ধরে এনে জবানবন্দি দিতে বলা হয়, সেই পুলিশও এভাবে দিতে পারবে না। মিন্নির নামে উপন্যাস লেখানো হয়েছে। অথচ মিন্নি তো তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা