kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারীরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা দম্পতি নিহত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারীরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে

কক্সবাজারের টেকনাফে গ্রেপ্তার এক রোহিঙ্গা দম্পতি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গত শনিবার দিবাগত গভীর রাতে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতরা হলেন লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাদের হোসেনের ছেলে দিল মোহাম্মদ ও তাঁর স্ত্রী জাহেদা বেগম (২৭)।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, জাদিমুড়া, মৌচনী, নয়াপাড়া ও শালবাগান ক্যাম্পের পাহাড়ি আস্তানায় অবস্থান নিয়ে একাধিক সশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আর এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশেষত অস্ত্র ও মাদক বহন বা দেখভালের কাজে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য মতে, টেকনাফ ও উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত এক মাসে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারে জড়িত ১০ রোহিঙ্গা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২২ আগস্ট হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছয়জন রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধেও আগে থেকে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।

টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা দিনে পাহাড়ের গোপন আস্তানায় পালিয়ে থাকে। আর সন্ধ্যা নামার আগে তারা ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ক্যাম্পের কিছু সাধারণ রোহিঙ্গার সঙ্গে এদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র, ইয়াবা ও লুটপাটের মালামাল ওই সব রোহিঙ্গার ঝুপড়িতে জমা করে। আর ঝুপড়ির নারীরা অর্থের বিনিময়ে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও মাদক আগলে রাখে। রোহিঙ্গা নারীরা অস্ত্র সন্ত্রাসীদের টার্গেটকৃত স্থানেও পৌঁছে দেয়।

সরেজমিনে শালবাগান ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে জানা গেছে, একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনার পর সন্ত্রাসীরা কৌশল পাল্টাচ্ছে। তারা অপরাধ তৎপরতায় রোহিঙ্গা নারীদের ভাড়ায় ব্যবহার করছে।

এমনই তৎপরতায় জড়িত ছিলেন লেদা ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ ও জাহেদা বেগম দম্পতি। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পে অস্ত্রসহ জাহেদাকে আটক করেন ক্যাম্পে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাঁর স্বামী দিল মোহাম্মদও আটক হন।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, আটক রোহিঙ্গা দম্পতি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছিলেন। দিল মোহাম্মদ একজন তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে বিভিন্ন সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অস্ত্র আনা-নেওয়ার কাজে নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ক্যাম্পে আরো অস্ত্র ও ইয়াবা মজুদ থাকার তথ্য দেন। সে অনুযায়ী তাঁদের দুজনকে নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযানে বের হয় পুলিশ। এ সময় সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে তাঁদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষে গোলাগুলি চলাকালে আটক রোহিঙ্গা দম্পতি গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

ক্যাম্পে নানামুখী অপরাধ কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গা নারীদের ব্যবহার করা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘কৌশলগত কারণে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও মাদক বহনে নারীদের ব্যবহার করতে পারে। তবে ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গা নারী সন্ত্রাসীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নিচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা