kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

কাউকে ছাড় না দেওয়ার আহ্বান টিআইবির

ছাত্র-যুবনেতাদের একাংশের দুর্নীতি হিমশৈলের চূড়ামাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্র ও যুবনেতাদের একাংশের দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দুর্নীতির যে চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে তাকে হিমশৈলের চূড়ামাত্র আখ্যায়িত করে সর্বাত্মক জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, চলমান অভিযান উৎসাহব্যঞ্জক ও জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি করবে। তবে এর ফলে দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণে কী ফল পাওয়া যাবে তা নির্ভর করবে এটি কতটুকু সর্বব্যাপী ও টেকসই হয় তার ওপর।

গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে কিছুসংখ্যক ছাত্র ও যুবনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে যে লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। মূলত রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ও রাজনৈতিক পরিচয়ে দুর্নীতির শিকড় আরো গভীরতর ও ব্যাপকতর।’

দুর্নীতির যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে তা হতাশাব্যঞ্জক হলেও অবাক করার মতো কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, জনস্বার্থের জলাঞ্জলির বিনিময়ে দেশে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতার অবস্থানকে নিজেদের সম্পদ বিকাশের লাইসেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক ছিল যে এর ফলে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাবে। রাজনীতি, ব্যবসা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশের দুর্নীতিবান্ধব যোগসাজশ সমাজের সব পর্যায়ে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করেছে। এখন জরুরি হচ্ছে কাউকে ছাড় না দেওয়া, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে যেকোনো পর্যায়ের অবস্থান ও পরিচয়ে প্রভাবান্বিত না হয়ে এই ধরনের অনিয়মে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে যে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে, তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। চলমান এ অভিযানের ব্যাপ্তি ও প্রসার অন্যান্য খাত এবং পর্যায়ে বিস্তৃত করতে পারলে একই চিত্র উদ্ঘাটিত হবে। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা তাঁদের মূল দলের অগ্রজদেরই অনুসরণ করে থাকে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দলীয় পরিচয় ও পদের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান ব্যক্তি, দল ও প্রতিষ্ঠাননির্বিশেষে পরিপালন হলেই শুধু প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের একইভাবে জবাবদিহির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে। টিআইবি মনে করে, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ঢেলে সাজাতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা