kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

জবিতে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

সাংবাদিককে হেনস্তা

জবি প্রতিনিধি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-১ (বিজ্ঞান শাখা)-এর ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষায় অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাকির দ্বারা সাংবাদিকের মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেওয়া ও তাঁকে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রথম শিফটে জোড় সংখ্যার ক্রমিক নম্বরধারী এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফটে বিজোড় সংখ্যার ক্রমিক নম্বরধারী পরীক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সকালের শিফটের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও বিকেলের শিফটে শিক্ষকদের যাচ্ছেতাই নিয়মের মাধ্যমে শেষ হয়। বিকেলের শিফটে পরীক্ষার্থীরা পুরান ঢাকার যানজটের কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হলে প্রবেশের নির্দেশনা থাকলেও তোয়াক্কা করেননি কতিপয় শিক্ষক। আইন বিভাগের ৯১০ ও ৯১৫ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ মিনিট পর দুই পরীক্ষার্থী সাদমান ইসলাম ও নাইমুল ইসলামকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় তারা প্রক্টর অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছে বললেও তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিটি পর্যন্তও অন্যান্য কক্ষে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। ওই সময় ওই দুই পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে ‘দি এশিয়ান এইজ’-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মিনার আল হাসানের মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাকি। তিনি মিনারকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ‘সাংবাদিকরা সবাই বেয়াদব’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর প্রক্টর অফিসে সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে গেলে সহকারী প্রক্টর বিভাস কুমার সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে রুঢ় ব্যবহার করেন।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রে একটি বেঞ্চে তিনজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হয়েছে। এমনকি তাদের প্রত্যেকের প্রশ্নের সেটও একই। তা ছাড়া কলা ভবনের কিছুসংখ্যক শিক্ষককে পরীক্ষা চালাকালে হল থেকে বের হয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। ফলে পরীক্ষার্থীরা একে অন্যের খাতা দেখে লেখার সুযোগ পায়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট-৩ (বাণিজ্য)-এর ভর্তি পরীক্ষা চলার সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামীকে পরীক্ষার হলের মধ্যে সেলফি তুুলতে দেখা যায়। পরীক্ষা চলাকালে তোলা এ সেলফি ভাইরাল হলে ফেসবুকে নিন্দার ঝড় ওঠে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, রাস্তায় যানজট থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের পর পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু কোনো হলে ঢুকতে দেবে আবার কোনো হলে ঢুকতে দেবে না এ রকম হওয়াটা দুঃখজনক। সাংবাদিক লাঞ্ছনার বিষয়ে তিনি ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, যানজটের বিষয়ে জানার পর মানবিক দিক বিবেচনায় নির্দিষ্ট সময়ের পর পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা