kalerkantho

শনিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৭। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১ সফর ১৪৪২

খরচ কমিয়ে বড় হচ্ছে ইডিসিএল

এই প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি গত চার বছরে সাশ্রয় করেছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা

তৌফিক মারুফ   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০১২-২০১৩ অর্থবছরে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল কেনা হয়েছিল কেজিপ্রতি ১৮ দশমিক ৭০ ইউএস ডলারে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে একই কাঁচামাল কেনা হয় ১৮ দশমিক ৬৩ ডলারে। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কেনা হয় ১৫ দশমিক ৬৩ ডলারে। বেসিট্রাসিন জিংক ওষুধের কাঁচামাল ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে কেনা হয় কেজিপ্রতি ৬১২ দশমিক ১৭ ইউএস ডলারে। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে একই কাঁচামাল কেনা হয় ৫১৩ দশমিক ৩৩ ডলারে। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কেনা হয় ৫০২ দশমিক ২০ ডলারে। এভাবে ওষুধের কাঁচামালের দাম বছর বছর বাড়ানোর পরিবর্তে কমিয়ে এনেছে দেশে ওষুধশিল্পের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগ ইন্ডাস্ট্রিজ (ইডিসিএল)। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি গত চার বছরে সাশ্রয় করেছে প্রায় ৬১ কোটি টাকা। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়াসহ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। ইডিসিএলের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন পরিবর্তন আসতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটিতে।

অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলের কারণেই এমন সাশ্রয় করা যাচ্ছে। আগে যেখানে বিশেষ সিন্ডিকেটের নামে গুটিকয় সরবরাহকারি-ঠিকাদার কাজ করত, সেখানে এখন প্রতিষ্ঠানটির টেন্ডার প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সিন্ডিকেট ভেঙে অধিক সংখ্যক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দরপত্রে অংশ নিচ্ছে। এতে করে প্রতিযোগিতায় একজন আরেকজনের চেয়ে দর কমিয়ে সঠিক বাজারদর দিতে উদ্যোগী হয়। বর্তমানে এই সঠিক দর দিতে গিয়ে অপচয় কমে গেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের সাশ্রয় হচ্ছে। সাশ্রয় করা এই অর্থ থেকে যেমন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া যাচ্ছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নানা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে।’

ইডিসিএল সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল ল্যাবরেটরির (জিপিএল) নাম পরিবর্তন করে ১৯৭৯ সালে সরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রডাকশন ইউনিট (পিপিইউ) নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়। পরিচালনার সুবিধার জন্য ১৯৮৩ সালের ১০ আগস্ট এটিকে বেসরকারি লিমিটেড কম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। নিবন্ধনকালে কম্পানিটি দুই কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন এবং এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা পরিসম্পদ ইক্যুইটি নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে কম্পানিটি ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন এবং ১০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে স্বল্প মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে। সরকার ইডিসিএলের মাধ্যমে অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। ইডিসিএল বর্তমানে জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ওষুধসহ প্রায় ১৩৫ ধরনের ওষুধ প্রস্তুত করছে।

ইডিসিএলের অগ্রগতি সম্পর্কে অধ্যাপক ড. এহসানুল কবির জানান, ইডিসিএল দেশের স্বাস্থ্য খাতে আরো বড় উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড শুরু করতে যাচ্ছে। ২০১০-২০১১ অর্থবছর থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার কনডম সরবরাহ করা হয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আরো ৫০ কোটি টাকার কনডম সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে খুলনা কনডম তৈরি কারখানা, দেশে উৎপাদিত রাবার শিল্পকে বহুমুখী করা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে অ্যাসেনশিয়াল ল্যাটেক্স প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছর খুলনার কনডম তৈরি কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামালের সম্পূর্ণটাই মধুপুর থেকে সরবরাহ করা হবে।

অন্যদিকে সেফালোস্পোরিন প্রকল্পের আওতায় জাতীয় ওষুধ উৎপাদনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যার ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। আশা করা যায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে টোলের মাধ্যমে চার ধরনের সেফালোস্পোরিন ইনজেকশন উৎপাদন করে সরবরাহ করা হচ্ছে। বগুড়া সেফালোস্পোরিন প্রকল্প চালু হলে টোলের প্রয়োজন হবে না। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার সেফালোস্পোরিন বিক্রি করা হয়েছে।

ইডিসিএল সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি বিভিন্ন ইউনিটে ওষুধ বিক্রি করে। স্থানীয় বাজারে সরাসরি ওষুধ বিক্রি করে না। বর্তমানে এমএসআর খাতে মোট বাজেটের ৮০ শতাংশ এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মোট চাহিদার শতভাগ ওষুধ সরবরাহ করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা