kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

জিজ্ঞাসাবাদে রাঘব বোয়ালদের নাম বললেন খালেদ

ক্যাসিনো চালাতে পুলিশসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী ও শীর্ষ অনেক ব্যবসায়ীকে টাকা দিতেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গ্রেপ্তারের পর জেরার মুখে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কাছ থেকে বেরিয়ে এসেছে অনেক রাঘব বোয়ালের নাম। একে একে যখন তিনি নাম বলছিলেন, তা শুনে হতবাক হচ্ছিলেন র‌্যাব সদস্যরা। খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে এরই মধ্যে খালেদের বলা নামের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন পুলিশসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেক ব্যবসায়ী। এঁদের তিনি নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ক্যাসিনো চালাতেন।

জিজ্ঞাসাবাদকারী ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খালেদ জিজ্ঞাসাবাদে অনেক অজানা তথ্য ফাঁস করেছেন। ক্যাসিনো কারবারের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর হাতে।

ধরা পড়ার পর খালেদ র‌্যাবকে ক্যাসিনো সম্পর্কে  জানান, প্রতিটি ক্যাসিনোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হতো। লাভের অংশের ভাগ সবার কাছে পৌঁছে দিতেন খালেদ। এর মধ্যে থানার ওসির কাছে মাসিক হারে কয়েক লাখ টাকা দিতে হতো। সংশ্লিষ্ট জোনের ঊর্ধ্বতন পুলিশের কাছেও মাসিক হারে টাকা পৌঁছে যেত। এমনকি উপপরিদর্শক বা পরিদর্শক লেভেলকেও টাকা দিতে হতো। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্যাসিনো এলাকার পুলিশের বিট অফিসারও পেত টাকার ভাগ। টাকার ভাগ রাজনৈতিক নেতার পকেটেও যেত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো। কাউকে কাউকে গাড়ি উপহার দিতে হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, ক্যাসিনোর টাকার ভাগ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যেত। জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানান, মগবাজার টিঅ্যান্ডটি কলোনির সন্ত্রাসী নাজির আরমান নাদিম ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হয়ে ঢাকায় কাজ করতেন তিনি। চাঁদাবাজি ও ক্যাসিনোর টাকা ওমানের মাসকটে থাকা সন্ত্রাসী নাদিমের কাছে পাঠাতে হতো। সেখান থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানও ভাগ পেতেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বর্তমানে ভারতের পাসপোর্ট দিয়ে দুবাইয়ে বাস করছেন।

খালেদ জানিয়েছেন, ক্যাসিনো চালু থাকার সময় গভীর রাতে ক্লাবগুলোয় আসত বিত্তবানদের গাড়ি। তাদের সঙ্গে থাকতেন ঢাকাই সিনেমার উঠতি নায়িকা থেকে শুরু করে নামিদামি মডেল। এসব মডেল-অভিনেত্রী জুয়ার আস্তানায় ‘এস্কর্ট গার্ল’ হিসেবে পরিচিত।

রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াং ম্যানস ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করতেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা