kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

প্রতিটি বিভাগে হবে ক্যান্সার হাসপাতাল

উপকরণের দাম নির্ধারণে সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিটি বিভাগে হবে ক্যান্সার হাসপাতাল

এখন থেকে যন্ত্রপাতি ও উপকরণের দাম নির্ধারণের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পণ্য, উপকরণ কিংবা যন্ত্রপাতি যা-ই কেনা হোক, বর্তমান বাজারমূল্য যাচাই করে তারপর দাম নির্ধারণ করতে হবে। বাজারমূল্য যাচাইয়ের আগে নয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় বালিশ কেনা নিয়ে দুর্নীতি, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য কেনা পর্দার অস্বাভাবিক দাম এবং গোপালগঞ্জে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য একটি বই ১৭ গুণ বেশি দামে কেনা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যেই সরকারপ্রধান এমন নির্দেশনা দিলেন।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, গতকাল একনেক সভায় বিভিন্ন উপকরণ ও পণ্যের অস্বাভাবিক দামের বিষয়টি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ডের’ পর হাসপাতালের পর্দা কেনা, এরপর সার্জারি শিক্ষার্থীদের জন্য বই কেনায় অস্বাভাবিক দাম নিয়ে দেশে আলোচনা হচ্ছে। প্রকল্প প্রস্তাবে পণ্য, উপকরণ ও যন্ত্রপাতির দাম বেশি ধরা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অনুরোধ করব, তাড়াহুড়া করবেন না। জানি আপনারা অনেক ব্যস্ত। তার পরও প্রকল্পে উপকরণের দাম ধরার সময় বর্তমান বাজারমূল্যটা যাচাই করে নেবেন।’ তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, পণ্য ও উপকরণের বর্তমান বাজারমূল্য দেখেই তবে তা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো কিছুর অস্বাভাবিক দাম নিয়ে সরকার সমালোচিত হতে চায় না। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও কর্মরত সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পণ্য ও উপকরণের দাম নির্ধারণের সময় সতর্ক থাকতে। অন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদেরও বলেছি, প্রকল্পটি তৈরির করার সময় বাজারমূল্য দেখেই পণ্যের দাম ঠিক করতে। তারপর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে।’

এদিকে গতকালের সভায় দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন’ শিরোনামের প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আটটি বিভাগীয় শহরে এখন আটটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে। এখন নতুন করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল করা হবে।

অন্যান্য প্রকল্প : গতকালের একনেক সভায় আট হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে আট হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। বাকি টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা