kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

সারদায় প্রধানমন্ত্রী

পুলিশকে যেন জনগণ বন্ধু ভাবতে পারে

‘সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশকে যেন জনগণ বন্ধু ভাবতে পারে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। ছবি : পিআইডি

পুলিশ বাহিনীর জন্য জনগণের আস্থা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘যাঁরা নবীন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আজকে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে (এক বছরের) কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন, তাঁদের এটাই বলব যে বিপদে জনগণের বন্ধু, এভাবেই নিজেকে গড় তুলবেন।’

গতকাল রবিবার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ওপর যে দায়িত্ব, তা যথাযথভাবে পালন করবেন এবং সমাজের সমস্ত কালো বিষয়, যা দেশ ও সমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সব সময় মনে রাখবেন, আপনারা জনগণের পুলিশ। কারণ জনগণের মাঝেই আপনাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-পরিজন। কাজেই তাঁদের কল্যাণ এবং তাঁদের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা দেওয়া আপনাদের দায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আজকের যাঁরা নবীন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ নিয়ে নতুন কাজে যোগদান করছেন, তাঁদের আমি এটাই আহ্বান জানাব, সততা, নিষ্ঠা এবং একাগ্রতার সঙ্গে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

এবারের পুলিশ বাহিনীর সদস্য নিয়োগে ঘুষ-দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পাওয়া না যাওয়ায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (পুলিশ বাহিনী) যে নতুন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে, সেখানে একটি লোকও কোনো ধরনের দুর্নীতি বা ঘুষ দেওয়ার কথা বলতে পারেনি। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এবার পুলিশ বাহিনীতে যে নিয়োগ হয়েছে, সে জন্য তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার জন্য এই পদক্ষেপটা আমি মনে করি, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতেও সেভাবেই আপনারা এগিয়ে যাবেন।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে বলেই আজকে আমরা জঙ্গিবাদ দমন করতে পেরেছি, সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি, মাদকের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে এবং এই অভিযান চলবে।’

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছে। একাডেমির ভিআইপি অতিথি ভবন ‘তরুণিমায়’ পৌঁছলে হাউস গার্ডের একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মো. নজিবুর রহমান তাঁকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী সেখানে ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদকও বিতরণ করেন।

শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তা শারমিন আক্তার চুমকি কমান্ডার হিসেবে কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন। ৩৬তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে ১১৭ জন এএসপি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৭ জন নারী সদস্য। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা