kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

মেয়ে নিথর, মা কাতরাচ্ছেন

সড়ক দুর্ঘটনায় আট জেলায় নিহত ১১

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মেয়ে নিথর, মা কাতরাচ্ছেন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ট্রাকচালক। ছবি : কালের কণ্ঠ

মায়ের সঙ্গে বাবার ভ্যানে করে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিল আট বছরের মারিয়া। হঠাৎ বাসের ধাক্কায় ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে সে। তাকে হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়া যায়নি। তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল সোমবার দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায়।

একই দিন ঢাকা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জ, পাবনার চাটমোহর, নারায়ণগঞ্জের গোগনগর, নোয়াখালীর কবিরহাট, কুড়িগ্রামের রৌমারী এবং লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত:

ফকিরহাট : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল দুপুরে; ফকিরহাটের টাউন নওয়াপাড়া এলাকায় খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কে। নিহত মারিয়ার বাবার নাম করিম শেখ (৪২)। তিনি ফকিরহাটের লখপুর ভট্টখামার এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, স্ত্রী আয়েশা বেগম ও মেয়ে মারিয়াকে নিজের ভ্যানে করে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন করিম শেখ। টাউন নওয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বাসের ধাক্কায় ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে মারিয়া। ভ্যান ও বাসের মধ্যে পড়ে থেঁতলে যায় আয়েশার শরীর। আহত হন করিম শেখও। এর মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় মারিয়ার। তার মা-বাবাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আয়েশার অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

ত্রিশাল : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকাল ৭টার দিকে; ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে। নিহত দুই পথচারী হলেন আলাল উদ্দিন ও ফজলু মিয়া। দুজনই নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, সকালে চা পান করতে গ্রামের বাজারে যান আলাল ও ফজলু। ফেরার পথে একটি ট্রাক চাপা দিলে মৃত্যু হয় তাঁদের।

নারায়ণগঞ্জ : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল ভোরে; সদর উপজেলার গোগনগরে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে। নিহত দুজন হলেন অটোরিকশার চালক ও গোগনগরের বাসিন্দা জামাল হোসেন (৪০) এবং অটোরিকশার যাত্রী মাসুদ মিয়া (৪২)। তিনি রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর এলাকার বাসিন্দা। দুজন সম্পর্কে ভায়রা হন। পুলিশ জানায়, সিমেন্টবাহী একটি কাভার্ড ভ্যান পেছন থেকে অটোরিকশাকে চাপা দিলে দুজনের মৃত্যু হয়।

হাতীবান্ধা : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকালে; বড়খাতা এলাকায় বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে। নিহত মামুন উপজেলার পশ্চিম বেজগ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক এবং লালমনিরহাটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ট্রাকের চালক মামুন। আহত হয় ২০ জন।

নোয়াখালী : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল দুপুরে; কবিরহাট পৌরসভার শাহজীরহাট-চাপরাশিরহাট সড়কে। নিহত ঈশা আক্তার (৪) ইন্দ্রপুর গ্রামের মো. লিটনের মেয়ে। পুলিশ জানায়, দৌড় দিয়ে সড়ক পাওয়ার সময় মাইক্রোবাসের নিচে চাপা পড়ে ঈশা। তাতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তার।

কুড়িগ্রাম : দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে; রৌমারীর ঝগড়ারচর এলাকায়। নিহত রাশেদুল ইসলাম (২৮) ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গরুর ব্যাপারী ছিলেন। পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম ভটভটিতে গরু নিয়ে দাঁতভাঙ্গা হাটে যাচ্ছিলেন। ঝগড়ারচর এলাকায় ভটভটি উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

চাটমোহর : সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শান্ত হোসেন (২০) গতকাল ভোরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত শনিবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।

ঢাকা : ঢাকার কদমতলী থানার মাতুয়াইলে মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৪৫) শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে (হেলপার) কাজ করতেন। গতকাল সোমবার ভোরের দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কুদ্দুস কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নবীয়াবাজ গ্রামের বাসিন্দা।

শ্যামলী পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান বলেন, ভোর সাড়ে ৪টায় মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে তাঁদের বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। ওই সময় দরজায় থাকা কুদ্দুস চলন্ত বাস থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ : ঢাকা থেকে দাদির সঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরছিল অনিক (৫)। দাদাকে দেখে মহাসড়ক পাড়ি দেওয়ার সময় দাদির হাত ফসকে ট্রাকের নিচে প্রাণ হারায় সে। গতকাল দুপুরে উপজেলার বটতলা এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। অনিক উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। সে মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় থাকত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা