kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

ছাত্রদলের কাউন্সিল

প্রার্থিতা নিয়ে সমঝোতায় আসতে পারেননি ‘বড় ভাইয়েরা’

স্থান এখনো নির্ধারণ হয়নি ♦ আজ থেকে কার্ড বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ছাত্রদলের নিয়ন্ত্রণকারী ‘বড় ভাইয়েরা’ নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে পারেননি। ফলে কারা হতে পারেন দেশের অন্যতম এই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতা তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। এদিকে সংগঠনটির কাউন্সিলের মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকলেও এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার স্থানই এখনো নির্ধারণ করতে পারেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। যদিও কাউন্সিলের অন্যান্য কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান খায়রুল কবীর খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, এক সপ্তাহেরও কম সময় হাতে রয়েছে। বড়-ছোট সবাই কাউন্সিলকে সফল করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। কেউ তাঁর প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে রয়েছেন এমন কোনো অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পর কেউ সিন্ডিকেট করবে বলে মনে হয় না।

সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রদলের সিন্ডিকেটের বড় ভাইয়েরা (সাবেক ছাত্রদল নেতারা) চেয়েছিলেন অঞ্চলভিত্তিক জোট করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বেছে নিয়ে তাঁদের জয়ী করে আনবেন। কিন্তু নানা কারণে এবার সেটি করতে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো পরোক্ষভাবে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথাবার্তা বলছেন।

ছাত্রদলের দপ্তর সূত্র বলছে, সংগঠনের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬টি শাখায় মোট ৫৭৩ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ শাখায় ১৪৫টি ভোট নিয়ে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। আর ছয় শাখায় ৩০টি করে ভোট নিয়ে নিচের দিকে আছে ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ। বরিশাল বিভাগের ৯টি শাখায় ৪৫, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ শাখায় ৫৮, খুলনা বিভাগের ১৪ শাখায় ৭০, ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫, রাজশাহী বিভাগের ১১ শাখায় ৫২, সিলেট বিভাগের সাতটি শাখায় ৩৫, রংপুর বিভাগের ১৩ শাখায় ৬৩টি ভোট রয়েছে। এসব ভোটারের মধ্যে এবারের কাউন্সিলের জন্য ভোটার হয়েছেন ৫৩৪ জন। সভাপতি পদে লড়ছেন ৯ জন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন।

সূত্রগুলো একটি হিসাব দিয়ে বলছে, সভাপতি পদে শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন তিনজনের মতো। সে হিসাবে ছাত্রদলের নেতারা যদি সিন্ডিকেট করে সমঝোতায় পৌঁছান তাহলে সহজেই একজন প্রার্থীকে বের করে আনতে পারবেন। যেমন—ঢাকা ও উত্তরবঙ্গে তাঁরা সমঝোতায় গেলে প্রায় ২০০ ভোট নিজেদের অনুকূলে নিতে পারবেন। তেমনি চট্টগ্রাম ও খুলনার বড় ভাইয়েরা সমঝোতা করলে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে সহজেই অন্যতম দাবিদার করে তুলতে পারেন।

তবে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সূত্রগুলোর হিসাবে বড় ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। তাঁরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরোক্ষভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন—মগবাজার ইস্পাহানি কলোনি এলাকায় এক ছাত্রনেতার বাসায় তাঁর প্রার্থীকে জয়ী করার উপায় নিয়ে নিয়মিত বৈঠক হয়। অন্যরাও নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে সুবিধা বুঝে নিয়মিত বসছেন।

একাধিক সূত্রের দাবি, এর মধ্যে যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও তাঁর অনুসারীরা সভাপতি পদপ্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ; বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নাজমুল হাসানসহ উত্তরবঙ্গের নেতারা প্রার্থী ফজলুর রহমান খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ফিরোসহ যশোর কেন্দ্রের নেতারা প্রার্থী হাফিজুর রহমানকে নিয়ে কাজ করছেন। বাকি সভাপতি প্রার্থী মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, এস এম সাজিদ হাসান বাবু, এ বি এম মাহমুদ আলম সরদার, মামুন খান নিজ নিজ অঞ্চলের বড় ভাইদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের সঙ্গে বড় ভাইদের সংশ্লিষ্টতা একটু বেশি। এই সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টার বিষয়টি গোচরে এসেছে কাউন্সিল পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের। তাই গত রবিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু প্রার্থী বা তাঁদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে সাবেক কোনো কোনো ছাত্রনেতার নাম ও বিভিন্ন প্রগ্রামের পুরনো ছবি ব্যবহার করে নিজেদের অনুকূলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে কারোর মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। বিবৃতিদাতাদের পক্ষে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর করেন। এতে আরো বলা হয়, ‘আমাদের অবস্থান নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন এবং কোনোভাবেই কোনো বিশেষ প্রার্থীর প্রতি আমাদের কোনো অনুরাগ বা আনুকূল্য নেই। কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট কমিটিভুক্ত সাবেক কোনো ছাত্রনেতার নাম প্রচারণায় ব্যবহার করা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

ঠিক হয়নি ভেন্যু : ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, মহানগর নাট্যমঞ্চ, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এগুলো পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অথবা চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ভোট নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

আজ থেকে কার্ড বিতরণ : পাটোয়ারী আরো জানান, প্রার্থীদের নামসংবলিত আলাদা রঙের ব্যালট পেপার তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বাবার নামসহ ভোটারের আলাদা পরিচয়পত্রও তৈরি করা হয়েছে। এসব আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা