kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন

৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

রংপুর অফিস   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

এরশাদের মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে জাতীয় পার্টিতে (জাপা) কোন্দল-দ্বন্দ্ব থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটির মনোনয়ন পান এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গতকাল সোমবার সাদ এরশাদের পাশাপাশি এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর ফলে এরশাদ পরিবারে আবারও গৃহবিবাদ শুরু হলো।

রংপুর সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসন। ৫ অক্টোবর উপনির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গতকাল বড় তিন দলের মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির সাদ এরশাদ, আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু এবং বিএনপির রিটা রহমানসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারী অন্য প্রার্থীরা হলেন খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল, গণফ্রন্টের কাজী শহিদুল্লাহ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রংপুর জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম, বাংলাদেশ কংগ্রেস দলের মোহাম্মদ একরামুল হক ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা।

তবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর ও মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এম এ মজিদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টিতে চলছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভক্তি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দলের এই বিভক্তি নিয়ে সাধারণ ভোটার ও এরশাদভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অন্যদিকে অনড় অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর সিটি মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। স্থানীয় প্রার্থী ছাড়া বহিরাগত, অপরিচিত ও কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির এই কোন্দল-দ্বন্দ্বে হতাশ সাধারণ ভোটারসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সদর উপজেলার মমিনপুর এলাকার ভোটার আমিনুল ইসলাম নিজেকে এরশাদভক্ত দাবি করে বলেন, ‘একটি দল থেকে একাধিক নেতা ভোট করতে চাইলে কী অবস্থা হবে, সেটি বোঝা দরকার। আমাদের মতো সাধারণ ভোটারের কাছে বিষয়টি ভালো লাগার কথা নয়।’

রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকার যুবক আহসান আলী বলেন, ‘প্রতিবারই ভোটের সময় এই দলের মধ্যে নানা রকম হাস্যকর ঘটনার জন্ম হয়। এটা রংপুরবাসীর জন্য দুঃখজনক। রংপুরের মানুষ আমরা এরশাদকে ভালোবেসে বারবার ভোট দিয়েছি। কিন্তু দলের নেতারা আমাদের আবেগ-ভালোবাসা নিয়ে খেলা করে। তা না হলে দলের একাধিক প্রার্থী কেন মনোনয়নপত্র দাখিল করবে!’

গতকাল রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়, অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। ব্যাপক লোকসমাগমের মাধ্যমে তাঁরা শোডাউন করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে শোডাউন করে পার্টির মনোনীত প্রার্থী সাদ এরশাদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরসহ স্থানীয় জাপা নেতাকর্মীদের সেখানে দেখা যায়নি।

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। গতকাল রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিনের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় পার্টির নেতারা তাঁর প্রতি অন্যায় আচরণ করবেন বুঝতে পেরে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাননি। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বহিরাগত সাদকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও আমি জয়ী হব।’

সাদ এরশাদের সঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে আসা জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলের সব প্রার্থীর সমর্থন ও সবার সিদ্ধান্তেই সাদকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সবাই সাদকে সমর্থন দিয়েছেন।’ নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি সাদের মাধ্যমে রংপুরের রাস্তাঘাটসহ সব ক্ষেত্রে আরো ব্যাপক উন্নয়ন হবে।’ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে রাঙ্গা বলেন, ‘সাদ এরশাদের সঙ্গে এলেও আমি রিটার্নিং অফিসারের কাছে যাইনি।’

এদিকে রংপুর সিটি মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘সাদ এরশাদের জয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। যাঁরা তাঁকে প্রার্থী করেছেন, তাঁদেরই রংপুরে এসে মাঠে কাজ করতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাদের সঙ্গে থাকবে না। জনগণ ভোট দিলে নির্বাচিত হবেন, না দিলে হবেন না। এটা নিয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।’

সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ইয়াসিরের : রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির। গতকাল দুপুরে রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এস এম ইয়াসির।

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের (পিপিবি) সভাপতি রিটা রহমান। গতকাল রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। এ সময় জেলা ও মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি কাওছার জামান বাবলা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বিশাল শোডাউন করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা