kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কার্যকারিতার প্রমাণ মিলবে এই বৃষ্টিতে

তৌফিক মারুফ   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কার্যকারিতার প্রমাণ মিলবে এই বৃষ্টিতে

চলমান দফায় দফায় বৃষ্টিতে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আবারও নড়েচড়ে বসেছেন। উদ্বেগ শুরু হয়েছে নতুন করে। এই বৃষ্টিকে রীতিমতো ‘পরীক্ষা’ বলে উল্লেখ করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। এমনকি গত আগস্টজুড়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান পরিচালনা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে তাও এই বর্ষার পর বুঝতে সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে ডেঙ্গুর গতিবিধি বিশ্লেষণের স্বার্থে রোগতত্ত্ববিদরা এই দফার বৃষ্টিকে আরো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছেন। তবে প্রায় সবাই অভিন্ন সুরে এই বর্ষায় ডেঙ্গুর বিস্তার আরো বাড়তে পারে ধরে নিয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষত বৃষ্টিতে জমে ওঠা পানি দ্রুত অপসারণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই বৃষ্টি একটি টেস্ট কেস হয়ে উঠল। এখন প্রমাণ মিলবে মানুষ কতটা সচেতন হয়েছে আর সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর ঢাকঢোল পিটিয়ে নানা কার্যক্রম কতটা কার্যকর হয়েছে। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কীটনাশক নিয়ে যে তোড়জোড় দেখা গেছে তাতে মশার প্রজনন হওয়ার সুযোগ থাকার কথা নয়। বিশেষ করে সুপ্ত ডিম থাকার কথা নয়। আর ডিম না থাকলে যতই বৃষ্টি-বর্ষা হোক সেই পানিতে এডিস জন্ম নেওয়ারও প্রশ্ন আসে না।’

গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে থাকায় সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও হাসপাতালগুলোতে এক ধরনের স্বস্তির দেখা মিলেছিল। কিন্তু গত রবিবার শেষ রাত থেকে গতকাল সোমবার দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি নতুন করে বাড়তি সতর্কতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘এই বৃষ্টি সবাইকে আরেক দফা সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছে। অবশ্য আমরা প্রস্তুতই আছি। এখন সবার প্রতি আহ্বান থাকবে—নতুন করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এড়াতে যেখানে যে সোর্সেই যতটুকু নতুন পানি জমেছে তা যেন দ্রুত পরিষ্কার করা হয়।’

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মমিনুর রহমান মামুন বলেন, ‘আমাদের এত দিনের কাজ কেমন হয়েছে তা এই বৃষ্টির মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে। তবে আমরা সেই ফল দেখার অপেক্ষায় বসে থাকছি না। আমাদের চলমান কার্যক্রম আরো জোরালো করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও চিরুনি অভিযান শুরু হচ্ছে।’

নতুন ভর্তি ৭১৬ : গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছে ৮৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়সীমায় ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৩০০ রোগী।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ২৩০ জন, হাসপাতাল ছেড়ে গেছে ৭৩ হাজার ৯৪২ জন এবং চিকিৎসাধীন তিন হাজার ৯১ জন। আর ১৯৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০১টি তথ্য পর্যালোচনা করে ডেঙ্গু নিশ্চিত হয়েছে ৬০ জনের।

আরো একজনের মৃত্যু : গতকাল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে শাপলা খাতুন (২৩) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আমাদের রাজশাহী অফিস। মারা যাওয়া শাপলা রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার হাসিবুল ইসলামের স্ত্রী। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস গতকাল বিকেলে শাপলার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা